সূর্য সরকার
সময়টা খুব একটা ‘ভালো’ যাচ্ছে না মমতার ‘বালু’র। দায়িত্ব অবশ্যই বদল হয়নি | কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার ‘জোড়া’ আসনের ধাক্কার পর এখন আর জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ‘তৃণমূলের জেলাধিপতি’ নন, দলের অন্দরের স্রোত তাঁর উল্টোদিকে বইছে বৈকি!
এখনও তিনি খাদ্য দফতরের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সামলাচ্ছেন । সরকারিভাবে উত্তর ২৪ পরগনার দলের জেলা সভাপতি কিন্তু তাঁর ‘সেই ক্ষমতা’ এখন আর নেই, তাঁর দায়িত্ব খর্ব করে জেলার ৫ লোকসভায় আলাদা আহ্বায়ক বসিয়ে নতুন কমিটি তৈরী করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তারপরেও মন ভালো নেই ‘বালু’র। কারণ, জেলা তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য অঙ্ক। সূত্রের খবর, ক্ষমতার আনুষ্ঠানিক হাতবদল হতে পারে যে কোনদিন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে জেলা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষকে পূর্ণ দায়িত্ব দিতে পারেন তৃণমূল নেত্রী।
শুধু তাই নয়, জেলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্তকে। যদিও শীলের শরীর খুব একটা ভালো নেই । সম্প্রতি , বিধানসভায় নিজের ঘরে ডেকে বেশ কিছুক্ষন তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেন মমতা। সূত্রের খবর , নেত্রী ব্যারাকপুরের বিধায়ককে বলেছেন , ” তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো, অনেক দায়িত্ব নিতে হবে ।” কিসের ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ? বড় দায়িত্বই বা কীসের ? সেই সব প্রশ্ন এখন ঘুরছে উত্তর ২৪ পরগনা তৃণমূলের অন্দরে।অন্যদিকে, জ্যোতিপ্রিয় বিরোধী গোষ্ঠী বলে পরিচিত বর্তমান রাজ্য বিধানসভার তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষও দৌড়ে আছেন। পানিহাটি কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার ভোটের লিড দিয়েছেন দলীয় প্রার্থী সৌগত রায়কে। কিন্তু তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে পানিহাটি পুরসভায় জমে থাকা ক্ষোভ উত্তরোত্তর বাড়ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই নিয়ে অবগত। ফলে জ্যোতিপ্রিয় ‘কাঁচি’ হলেও নির্মল ঘোষের ‘কপাল খুলবে’ কিনা সন্দেহ আছে তৃণমূলে । তাই নির্মল বা বালু কোনো গোষ্ঠী নয়, দুই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা কোনও পুরনো তৃণমূল নেতা, পরিষ্কার ভাবমূর্তির বিধায়কের হাতেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সাংগঠনিক – রাজনৈতিক ‘মেরামত’-এর দায়িত্ব তৃণমূল নেত্রী দিতে চাইছেন বলে খবর। সেই দৌড়ে আপাতত এগিয়ে রথীন ঘোষ – শীলভদ্র দত্তরাই।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news