নিজস্ব প্রতিনিধি।
হঠাৎ নবান্নের অলিন্দে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়! গন্তব্য ১৪তলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর। ঘন্টা দেড়েকের বৈঠক শেষে নবান্ন ছেড়ে বেরোলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের (Shovan Chatterjee) এই অধ্যাপিকা বান্ধবী। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়, প্রাক্তন মেয়রকে ঘরে ফেরাতেই কি বান্ধবীকে ডেকে নবান্নে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী ? কিন্তু বৈঠক শেষে শোভনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানাচ্ছে, প্রাক্তন মেয়রের ‘ঘর ওয়াপসি’ এখনই সম্ভব নয়। কারণ প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, বৈশাখী বন্দোপাধ্যায়কে (Baishakhi Banerjee) তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠনে বড় পদের পাশাপাশি, শোভনের সব রকম দাবি মেনে নিতে রাজি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এমন দাবিগুলির সঙ্গে বৈশাখী মারফত তৃণমূল নেত্রীর কাছে এমন কিছু বার্তা পাঠিয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়, যা দলের কাছে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই এখনই ভোট যুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে ময়দানে নামার বিষয়টি স্থগিত রাখছেন শোভন-বৈশাখী। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এ বিষয়ে কড়া নজর রেখে চলেছেন। শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে ইদানিং শোভন-বৈশাখী সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন তারা। তারই মাঝে আচমকাই মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে বৈশাখীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক উৎকণ্ঠা বাড়ি এসে তাদের।
তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গেরুয়া শিবিরে সক্রিয় হওয়া থেকে বিরত রাখতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছেন। ঠিক যেভাবে কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে ভাইফোঁটা দিয়ে বিজেপির থেকে শোভনকে দূর করে দেওয়ার চাল দিয়েছিলেন তিনি। অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নবান্নে ডেকে পাঠিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক করে বার্তা দিতে চেয়েছেন তাঁর স্নেহের কাননকে। প্রকাশ্যে এমনটা মনে হলেও, রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব শোভনকে পেতে যে মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে, তাতে ধাক্কা দিতেই এমন সূক্ষ্ম চাল দিয়েছেন মমতা। এমনটাই জানাচ্ছে কালীঘাটের একটি বিশ্বস্ত সূত্র। তৃণমূলের এক মুখপাত্রের কথায়, “দিদি শোভনকে দলে ফেরাতে চাইলেও, ওঁর সব দাবি দিদি মেনে নেবেন না।”
সম্প্রতি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত। যার জেরে বিজেপির হয়ে এবারের পুরভোটে ঘুঁটি সাজাতে প্রায় রাজী হয়েছিলেন শোভন, এমনটাই সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল। শোভন কলকাতার রাজনীতিতে কতটা কার্যকরী, তা ভালই জানেন মমতা। একদা তাঁর স্নেহের কাননকে বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কৌশলী বৈঠক বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর দাবার চাল কতটা কার্যকর হয় তার জন্য অপেক্ষা আগামী কয়েকদিনের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news