ওয়েব ডেস্ক:
মোদিকে কুর্তা-মিষ্টি পাঠানোর কথা স্বীকার করে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, গতকাল অক্ষয়-সঙ্গে মোদির সাক্ষাৎকার টেলিকাস্ট হওয়ার পরপরই ‘কুর্তা-মিষ্টি’ নিয়ে সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। বৃহস্পতিবার সিউড়ির জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলেন, ‘কুর্তা দিলে দোষ কোথায়? পয়লা বৈশাখে দিই। দুর্গা পুজায় দিই। আমও পাঠাই।’ অবশ্য তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, এমন উপহার তিনি অনেককেই পাঠান। কিন্তু ‘সৌজন্য’ ভাঙিয়ে রাজনীতি করেন না। যদিও এদিন মোদি ছাড়া আর কাকে কাকে উপহার পাঠান মুখ্যমন্ত্রী তা জানাননি।
প্রসঙ্গত, গতকালকের সাক্ষাৎকারে বিরোধী নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, প্রতি বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কুর্তা ও মিষ্টি পাঠান। অক্ষয় কুমারের করা প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেন মমতার নাম। এও বলেন যে “এটা বলে দিলে নির্বাচনে লোকসান হতে পারে আমার। মমতাদি প্রতিবছর একটা-দুটো কুর্তা নিজে পছন্দ করে আমাকে পাঠান। ঢাকা সফরে শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। তারপর থেকে প্রতি বছর দু-তিনবার আমায় মিষ্টি পাঠান উনি। সেটা দেখে মমতাদি-ও মিষ্টি পাঠান আজকাল।”
স্বভাবতই মোদি-মমতার এহেন ‘সম্পর্কের’ কথা সামনে আসার পর শোরগোল পড়ে যায় গোটা দেশের রাজনীতিতে। রাজ্য রাজনীতিতে তো বটেই। শুরু হয় নানা জল্পনা। ওঠে নানাবিধ প্রশ্নও। বুধবারই এই ইস্যুতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, দিদি কুর্তা-মিষ্টি পাঠান মোদিকে৷ বিষয়টা জলের মতো পরিষ্কার, কার সঙ্গে কে হাত মিলিয়েছে৷ প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্রও বলেন, ‘মোদি এবং দিদি গোপনে হাত মিলিয়ে চলেন তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে৷ গুজরাতের দাঙ্গার পর মোদিকে লাল গোলাপ পাঠিয়েছিল মমতা৷’
প্রসঙ্গত, একদিকে যখন ভোটের বাজারে একে অপরকে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ করে চলেছেন, তার মধ্যে অক্ষয়কুমারকে দেওয়া মোদির জবাব চমক দিয়েছে সকলকেই। যা নিয়ে গতকাল মুখ খোলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বদলে জবাব দেওয়ার জন্য বেছে নেন আজকের সিউড়ির সভামঞ্চ। বৃহস্পতিবার কুর্তা-মিষ্টি পাঠানোর কথা স্বীকার করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, ‘মোদিকে উপহার দেওয়া হবে, রসগোল্লা, চা সব খাওয়ানো হবে। শুধু ভোট একটাও দেওয়া হবে না।’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news