দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় : 
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীত কী কালো ছায়া ফেলছে তাঁর বর্তমানে!
বৃহস্পতিবার ইনডোর স্টেডিয়ামের সভায় যুব তৃণমূল কংগ্রেসকে ধমক দিয়েছেন মমতা। তাঁর এই বকুনি দেওয়ার পরই উপরিউক্ত সংশয়টি মাথা তুলেছে যুগপৎ কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস মহলে। দুই দলের প্রবীনদেরই মনে পড়ছে যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী থাকাকালীন কী কাণ্ডটাই না করতেন মমতা! ইনডোরে মমতা বলেছেন, যুব তৃণমূল কংগ্রেস কখনওই তৃণমূল কংগ্রেসের (মাদার অরগানাইজেসন) ওপরে নয়।
কি করেছে তৃণমূল যুব কংগ্রেস? অভিযোগ, কোনও কোনও জেলায় যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতিরা মান্য করছেন না তৃণমূল জেলা সভাপতিদের। দল একটা কর্মসূচী গ্রহন করছে তো পাশাপাশি একই কর্মসূচী আলাদা ভাবে করে দেখাচ্ছে দলের যুব সংগঠন! আশঙ্কার জায়গা হল যুব বাহিনী নাকি দলের সমান্তরাল আর একটি সংগঠন চালাচ্ছে।
অভিযোগ মারাত্মক। অভিযোগটি যেহেতু দলনেত্রী স্বয়ং করেছেন, সেহেতু অভিযোগটি শুধুমাত্র মারাত্মক নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। এই অভিযোগ বেশ কিছু প্রশ্ন ও একটি দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেই যুব কংগ্রেসের সময় থেকে যাঁরা পথ চলছেন তাঁদের কেউ কেউ বলছেন, এ আর এমন কী করেছে যুব তৃণমূল! দিদি যখন যুব কংগ্রেসে ছিলেন তখন এর চেয়ে বহুগুণ বেশি করেছেন। মাদার কংগ্রেসকে উপেক্ষা করে নিজের মত সংগঠন চালিয়েছেন। দলের নির্দেশের, নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করেননি। প্রবীন কংগ্রেসীরা বলছেন, মমতা দলের মধ্যে দল তৈরি করেছিলেন। মাদার পার্টিকে অসম্মান করা যদি কেউ শিখিয়ে থাকে, কেউ যদি শিখিয়ে থাকে দলের সিনিয়র নেতাদের অপমান করা, তাহলে তিনি হলেন মমতা নিজে।
তাঁদের কথায়, মমতার তুলনায় এখনকার যুব তৃণমূল কংগ্রেস নেহাত গোবেচারা। মমতা জোড়াপাতা চিহ্ন নিয়ে মাদার কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পুরসভা ভোটে প্রার্থীও দিয়েছেন।
আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখায়। এই ভাষাতেই মমতার সমালোচনা করছেন কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীরা। অন্যদিকে যুব তৃণমূল বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। তাঁদের মনে প্রশ্ন, “দিদি কেন এমন বললেন!” তাঁরা বুঝতে চাইছেন অভিষেকের সংগঠন সম্পর্কে এমন গুরুতর অভিযোগ কেন করলেন দলনেত্রী! অভিষেক এখন অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি। অভিষেক ফিরে আসার জন্য মমতা কেন অপেক্ষা করলেন না! অভিষেক শুধুমাত্র যুব তৃণমূলের সভাপতিই নন বরং তিনি আরও বেশি কিছু। মুকুল রায় দল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মনে করা হয় অভিষেকই এখন দলে দ্বিতীয়। তিনিই যে ভবিষ্যতে দলের সর্বময় নেতা তা নিয়েও দলে আর কারও কোনও সন্দেহ নেই। ফলে আর পাঁচটা শাখা সংগঠনের মাথাদের সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলা যায় কী! অভিষেক-অনুগামীদের কেউ কেউ বলছেন, অভিষেকদার সংগঠনের সমালোচনা করা মানে তাঁরই সমালোচনা করা।
মমতা এমন কাজ কেন করলেন যুব তৃণমূলের প্রায় কোনও নেতাই তা ধরতে পারছেন না। প্রশ্ন উঠছে, মদন মিত্র বা শুভেন্দু অধিকারি যখন যুব সভাপতি ছিলেন, তখন কি মাদার পার্টির সঙ্গে বৈরিতা ছিল না! হুগলি জেলার এক নেতার কথায় পার্টির হুগলি জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্তের সঙ্গে এক সময়ের জেলার যুব তৃণমূল সভাপতি দিলীপ যাদবের আকচাআকচির কথা তো সর্বজনবিদিত। তখন তো নেত্রী কোনওদিন এভাবে মুখ খোলেননি। এরকম উদাহরণ আরও আছে। তবে আজ অভিষেকের বেলায় কেন প্রকাশ্যে মুখ খুললেন নেত্রী!
তৃণমূল কংগ্রেসে একটি কথা চালু আছে যে এখানে যোগ্যতার চেয়ে বিশ্বাসযোগ্যতার দাম বেশি। যুব কংগ্রেসে নিজের অতীত ক্রিয়াকলাপ মনে রেখে মমতা হয়ত যুব সংগঠনের শীর্ষ পদটি তাঁর পুত্রবৎ ভ্রাতুষ্পুত্র অভিষেককে দিয়েছেন। দলে মাত্রাতিরিক্ত চাটুকার ছাড়া কেউ বলবে না যে শুভেন্দুর চেয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ অভিষেকের বেশি। তৃণমূলের ভেতরে ও বাইরে ব্যক্তিগত আলোচনায় রাজ্য রাজনীতির সকলেই এই কথাই বলছেন। তাহলে এ হেন বিশ্বাসভাজন ভ্রাতুষ্পুত্রের সংগঠন থেকে কী কোনও অশনি সংকেত পাচ্ছেন মমতা। এমনিতে একুশে জুলাইয়ের সভায় বিশেয রঙের পোষাক পরে অভিষেক-অনুগামীদের আগমন, একুশের প্রচারে (গতবার) মমতার সঙ্গে অভিষেকের ছবি আগেই বুঝিয়ে দিয়েছে দল আর শুধু মমতার নয় অভিষেকেরও। বলা বাহুল্য নেত্রীর স্নেহময় প্রশ্রয়েই এটা সম্ভব হয়েছে। মদন শুভেন্দুরা কখনও ভাবতে পারেননি একুশের দলীয় হোর্ডিংয়ে বা ব্যানারে নেত্রীর পাশাপাশি তাঁদেরও ছবি থাকবে।
তাহলে এবছর একুশে জুলাইয়ের সভার আগে কেন প্রকাশ্যে যুব সংগঠনের সমালোচনা করলেন মমতা! যুব সংগঠন যখন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রের দায়িত্বে তখনই তাঁকে কেন বলতে হল, যুব তৃণমূল মাদার পার্টির ওপরে নয়!
কংগ্রেসের প্রবীনরা বলছেন, যুব সংগঠনকে এসব নীতিকথা বলার নৈতিক অধিকার মমতার নেই। আর তৃণমূলের ভেতর থেকে গুঞ্জন উঠছে, ভাইপোর বিশ্বাসযোগ্যতা কি কম পড়িয়াছে? বিশ্বাসযোগ্যতা?
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news