নীল রায়। দু: সময়ে দু: সময়ের কর্মীদের খুঁজলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে হুগলি জেলার তৃণমূল নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। হারের ময়নাতদন্ত করতে করতেই হুগলী জেলায় তাঁর পুরোনো দিনের কর্মীদের খোঁজার চেষ্টা করলেন, ১৯৯৮ সালে যারা এক কথায় কংগ্রেস ছেড়েছিলেন দিদির সঙ্গে। কিন্তু, পেলেন না কাউকে! এমনকি, হুগলি জেলায় যে সমস্ত নেতা-কর্মীরা সিঙ্গুর আন্দোলনে দলনেত্রীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ে সামিল ছিলেন, তাঁরা আজ উধাও দলের জেলা, ব্লক তথা পঞ্চায়েত স্তরের নেতৃত্ব থেকে। বদলে উঠে এসেছে একঝাঁক নতুন মুখ! যাদের বেশিরভাগই অপরিচিত তাঁর কাছে। এক সময় স্মরণ করলেন শ্রীরামপুরের প্রয়াত সাংসদ আকবর আলী খন্দকারকেও। এক সময় বৈঠকে মমতা বলেন “আমার সেইসব কর্মীরা কোথায়? যারা কিছু পাওয়ার আশায় নয়, লড়াই করবেন বলে আমার সঙ্গে আন্দোলন করেছিলেন।” ভাইদের বদলে দলে যে এখন ভাইপোদের রমরমা, তা বোধহয় এদিনই আঁচ করতে পারলেন দিদি। এরপরেই লোকসভা ভোটে হুগলি জেলার ফলাফলের তালিকা নিয়ে নেতাদের সওয়াল জবাব শুরু করেন মমতা। একে একে পুরশুড়ার নেতা পারভেজ রহমান, জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়, গোঘাটের বিধায়ক মানস মজুমদারকে তুলোধোনা করেন তিনি। এক সময় তৃণমূল সুপ্রিমো বলেই ফেলেন, “ইভিএমে কারচুপি করেছে সেটা আমরা জানি কিন্তু তা সত্বেও দলের ফল খারাপ হল কেন?’ তিনি আরও বলেন “যারা মনে করছেন অন্য কোথাও যাবেন। তাদের জন্য দরজা খোলা আছে। চলে যেতে পারেন। কিন্তু দলে থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না।”এমন কথা বলে আসলে তৃণমূল সুপ্রিমো নিজের দু:সময়ের কর্মীদের সঙ্গে তুলনা টানলেন নব্য বা তৎকাল তৃণমূলীদের! এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news