নীল রায়।
২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল। নকশালবাড়িতে রাজু মাহালি নামে এক আদিবাসীর বাড়িতে বসে মুগডাল, পটল ভাজা, ধোঁকার ডানলা দিয়ে কলাপাতায় ভাত খেয়েছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও দিলীপ ঘোষ।
২০১৯ সালের ২৯ জুলাই। নজরুল মঞ্চের সাংবাদিক সম্মেলনে অনেকটা অমিত শাহের দেখানো পথেই দলকে পথ চলার নির্দেশ দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন দলের ১০০০ জনপ্রতিনিধিকে আগামী ১০০ দিনের মধ্যে ১০ হাজার গ্রামে পৌঁছে যেতে হবে। শুধু পৌঁছালেই হবে না, গ্রামের গরীব মানুষগুলোর সঙ্গে তাদের বাড়িতে বসে খেতে হবে, রাতে শুতে হবে। জানতে হবে তাদের মনের কথা। আর গ্রাম ছাড়ার আগে উত্তোলন করতে হবে তৃণমূলের জোড়া ফুল মার্কা তেরঙ্গা পতাকা।
ভারতীয় রাজনীতিতে গ্রামের গরিব জনতার সঙ্গে মিশে রাজনীতি করার ঘরানা রয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও দেশের বামপন্থী দলগুলির। দূরদর্শিতার অভাবে এমন রাজনীতি থেকে পিছিয়ে গিয়েছে সিপিএম, সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক, আরএসপি মতো বামপন্থী দলগুলি। কিন্তু গরিব মানুষের বাড়িতে গিয়ে পাত পেড়ে খাওয়ার সংস্কৃতি এখনও বহন করে চলেছে গেরুয়া ধ্বজাধারী সংগঠন। সেই সংস্কৃতি মেনেই ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল রাজু মাহালির বাড়িতে বসে খেয়েছিলেন অমিত শাহ ও দিলীপ ঘোষ। এমনটা তাদের রাজনৈতিক দর্শনও বটে।
সংবাদমাধ্যম মারফত মুখ্যমন্ত্রীর এমন নির্দেশের কথা জেনেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান জিষ্ণু বসু। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “বাংলা ভাষার একটি কথা আছে, অনভ্যাস সত্ত্বেও কোনও ব্যক্তি যদি মাথায় তিলক কাটে। তাহলে তা তার অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাথায় তিলক কাটা থাকলে যেমন তার পক্ষে অস্বস্তি হয়। তেমনি অন্যের পক্ষেও তাকে দেখতে বেমানান লাগে। তাই তৃণমূল গরিব মানুষের বাড়িতে গিয়ে খাওয়া ও রাতে থাকার যে প্রয়াসের কথা বলছে। তা তাদের সংস্কৃতি নয়। এভাবে মানুষের মন পাওয়া যায় না।” তিনি আরও বলেন, “তৃণমূলের প্রকৃত স্বরূপ গত পঞ্চায়েত ভোটে গ্রামের মানুষ দেখেছে। পঞ্চায়েত ভোটের স্থানীয় স্তরে যে তার জন্য ৬২ জন মানুষকে খুন হতে হয়েছে বাংলায়। তাই তাদের নেতাদের গ্রামের গরিব মানুষের বাড়িতে খাওয়া কিংবা রাত কাটানোর ঘটনা কতদূর সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”
তৃণমূলের জেলা স্তরের এক নেতার কথায়, “জোর করে কাউকে কিছু করানো যায় না। তাছাড়া আমাদের দলীয় দর্শন বা আদর্শে গরিব মানুষের বাড়িতে বসে খাওয়া বা রাত কাটানোর কথা কোথাও নেই। গত ৮ বছরে আমাদের নেতারা যে বৈভবশালী জীবনযাপন করেছেন। তাতে যে কোনও নিচুতলার কর্মীর বাড়িতে বসে খাওয়া তো দূর অস্ত রাত কাটানো দুঃস্বপ্নের মতো বিষয়। ঘোড়াকে নদীর ধারে আনা যায় ঠিকই! কিন্তু জোর করে জল খাওয়ানো যায় না।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news