চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
একুশের ভোটে করোনা কাঁটায় জর্জরিত হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে প্রতিদিন। আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আগামী বছর রাজ্যে সাধারণ বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু করোনা (Coronavirus) সংক্রমণ যে ভাবে বাড়ছে তাতে আগামী বছর নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলে। বাংলাই নয়, চলতি বছর নভেম্বর মাসে বিহার বিধানসভার নির্বাচনও বানচাল হতে পারে কোভিড সংক্রমণের কারণে। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই অসম ও পুদুচেরিতেও ভোট হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। করোনা সংক্রমনের পরিস্থিতিতে যদি এই রাজ্যগুলিতে ভোট করা সম্ভব না হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।
সূত্রের খবর, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যদি অসম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গতে নির্দিষ্ট সময়ে ভোট করা সম্ভব না হয়, তাহলে সংক্রমণের তীব্রতা কমলে ২০২১ সালের শেষ দিকে একযোগে ভোট করাতে পারে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আর কমিশনের এমন সিদ্ধান্তে ‘অসুবিধায়’ পড়তে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, নির্দিষ্ট সময় ভোট না হলে রাজ্যে জারি হতে পারে রাষ্ট্রপতি শাসন। এবং ভোটের আগেই যাবতীয় প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব চলে যাবে রাজ্যপালের হাতে। ভোটের সময়তেও মুখ্যমন্ত্রীর হাতে প্রশাসনের কোনও দায়িত্বভার থাকবে না। ফলে ভোটের সময় সরকারি ভাবে দায়িত্বে না থেকেও যেভাবে প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস (বিরোধীদের মতে), সেই বাড়তি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
৩৪ বছরের বামফ্রন্ট জমানা কিংবা পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ভোটের সময় রাজ্য পুলিশ প্রশাসনকে সব রকম ভোটে ব্যবহার করার নজির রয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেস, সিপিএম ও বিজেপি (BJP) একযোগে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছে। সেই সমস্ত অভিযোগকে পাত্তা না দিয়ে প্রশাসনকে ভোট পরিচালনার কাজে ব্যবহার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু বিধানসভা ভোট যদি রাষ্ট্রপতি শাসনে হয় তাহলে সেই সুবিধা নাও পেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা করছে কালীঘাট।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news