চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
“গ্রীষ্মে আমরা আম খাই, কিন্তু এবার আমফান চলে এসেছে।” এভাবেই ঘূর্ণিঝড় আমফান প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নবান্নের (Nabanna) সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “একদিকে কোভিড সামলাতে হচ্ছে। তারপর ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের ফেরানোর বিষয় দেখতে হচ্ছে, কবে ট্রেন আসবে, কী ভাবে তাঁদের স্ক্রিনিং হবে, কী করে জেলায় পৌঁছে দেওয়া হবে। সবটাই দেখতে হচ্ছে। এর মধ্যেই আবার আমফান নাম নিয়ে ঝড় আসছে। গ্রীষ্ম কালে আমরা আম খাই। কিন্তু এবার আমফান চলে এসেছে।” এরপর তিনি আরও বলেন, “এই ঝড়ের তিনটি অংশ। মাথা, চোখ আর লেজ। হেড, আই, টেল। সবার প্রথমে মাথা হিট করবে।” করোনার মাঝে এই ঘূর্ণিঝড়কে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ বলে বর্ণনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “রাজ্যের টাস্ক ফোর্স এবং কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা দল ইতিমধ্যেই চার জেলায় মোট তিন লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমফান সবচেয়ে বেশি ধাক্কা দেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। পাশের উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, বসিরহাট, হাসনাবাদেও ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তা ছাড়াও দুই মেদিনীপুরেও আছড়ে পড়বে আমফান। দক্ষিণ ২৪ পরগনার দু’লক্ষ, উত্তর ২৪ পরগনার ৫০ হাজার, পূর্ব মেদিনীপুরের ৪০ হাজার এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ১০ হাজার মানুষকে বিভিন্ন ফ্লাড শেল্টার, স্কুলবাড়িতে আশ্রয় শিবির করে রাখা হয়েছে।”
এদিন সকালে আমফান ঘূর্ণিঝড় (Amphan Cyclone Strom) প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রীকে। দুজনের বেশ কিছুক্ষণ ফোনে কথা হয়। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, আমরা ঠিকাছি। সব ব্যবস্থা করছি। বুলবুলের সময়েও করেছি।” আগামীকাল সারারাত নবান্নের কন্ট্রোল রুমে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এদিন হেল্পলাইন নম্বর চালু করে দিয়েছেন তিনি। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর- ২২১৪ ৩৫৩৬, ২২১৪ ১৯৯৫ ও টোল ফ্রি নম্বর ১০৭০। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘ঘূর্ণিঝড়ে কী হবে, কেউ জানে না। অনেকে বলছেন, আয়লার চেয়েও ভয়ঙ্কর হবে।’’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news