নীল রায়।
পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করে গত বছরেই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারও সেই পিতৃপক্ষের শেষ লগ্নে শহর কলকাতার চারটি পুজোর উদ্বোধন করলেন তিনি। সঙ্গে সাফাই দিয়ে মমতা বলেন, “কাল থেকে আমার প্রচুর প্রোগ্রাম। আর হয়তো আসতে পারব না। তাই আজ থেকেই শুরু করে দিলাম।” তিনি আরও বলেন, “কাল মহালয়া। কাল সকালে পিতৃ তর্পণ করে বিকেল থেকে মাতৃতর্পণ শুরু। এটা নতুন কায়দায়, নতুন আঙ্গিকে মাকে বরণ করলাম।”
প্রসঙ্গত, এদিন মুখ্যমন্ত্রী এমন উদ্যোগকে কটাক্ষ করেন বিশ্বহিন্দু পরিষদের (BHP) সর্বভারতীয় নেতা সচিন সিংহ। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে দুর্গাপুজো শক্তির আরাধনা। উনি সেটাকে উৎসবের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন, যেখানে ফুর্তিই মূল উদ্দেশ্য।” এই বিএইচপি নেতা আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কেন এরম করছেন সেটা অনেকেই জিজ্ঞাসা করুন। এখন তো পুজোর কারণে পুজো হচ্ছে না, রাজনীতির আঙিনায় পুজোর ব্যবহার হচ্ছে। শ্রদ্ধা ও ভক্তির জায়গায়, ওনারা পুজোকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগান।”
পিতৃপক্ষে পুজো উদ্বোধন নিয়ে বিতর্ক এড়াতে এদিন আরও একটি স্বভাব বিরুদ্ধ কাজ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। সাধারণত, পুজো উদ্বোধনে গেলে চণ্ডীপাট করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, এদিন তিনি বলেন,”আজ আমি চণ্ডী মন্ত্র পড়ব না। কারণ, আমিও ধর্ম মানি। আমাদের মতো করে মানি। আমাদের ধর্ম লোকদেখানো নয়। পিতৃপক্ষে পুজো মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে আমি চণ্ডীপাঠ করব না। ওটা আমাদের কাল থেকে শুরু হবে।”
হাতিবাগানের পুজো উদ্বোধন সেরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নবান্ন থেকেই সোজা এখানে চলে এসেছি। আমার জীবনে ছুটি বলে কিছু নেই। একঘণ্টাও ছুটি নিইনি। যে দিন ছুটি আসবে, সে দিন হয়তো আমি থাকব না।” তিনি আরও বলেন, “এই পুজোর সময়ে আপনারা যখন রাস্তায় থাকেন, তখন আমি ঘণ্টায় ঘণ্টায় খোঁজ নিই। সব ঠিকাছে তো? সব ঠিকাছে তো? সব ঠিকাছে তো?”
এদিন উত্তর কলকাতার চালতাবাগান, হাতিবাগান নবীন পল্লী, কুমোরটুলি পার্ক এবং হিন্দুস্তান ক্লাবের পুজো মণ্ডপের ফিতে কাটেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news