সঞ্জয় সরকার:
আবার জমজমাট হচ্ছে দার্জিলিং। সামনেই পুজোর মরশুম। ফলে পর্যটকদের আনাগোনা যে বাড়বে তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু তার পাশাপাশি বাড়ছে রাজনৈতিক পর্যটকদের আনাগোনাও। আসলে সামনেই যে ভোট পুজো। ফলে রাজনীতির কারবারিদের আনাগোনা যে বাড়বে তা বলাই বাহুল্য। ২০১৪ সালে দার্জিলিং লোকসভা আসনে জিতে কেন্দ্রে মন্ত্রী হয়েছেন বিজেপির এস এস আলুওয়ালিয়া। পাহাড়ে বিজেপির নিজস্ব কোনও সমর্থন না থাকলেও, বিমল গুরুঙ্গের নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থনে তৃণমূলকে হারিয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন বিজেপির এস এস আলুওয়ালিয়া। তারপর তিস্তা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। এই চার, সাড়ে চার বছরে আলুওয়ালিয়াকে খুব একটা বেশি পাহাড়ে আসতে দেখা যায়নি। প্রথম প্রথম যাও বা আসতেন, কিন্তু শেষ দেড়, দু বছরে তাঁকে আর দেখা যায়নি। রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিরোধের কারণে বিমল গুরুঙ্গ সেই যে পাহাড় ছেড়েছেন, তখন থেকে বিজেপি সাংসদও আর পাহাড়মুখো হননি। কিন্তু শোনা যাচ্ছে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দেখা যাচ্ছে দার্জিলিঙে। তবে পাহাড়ে নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আসছেন, বৈঠক করছেন দার্জিলিংয়ের সমতল শিলিগুড়িতে। একদিকে বিমল গুরুঙ্গ, রোশন গিরির মত মোর্চার নেতারা পাহাড়ে উঠতে পারছেন না, অন্যদিকে বর্তমান মোর্চা নেতা বিনয় তামাং বা অনীত থাপাদের সঙ্গে তাঁর তেমন কোনও যোগাযোগই নেই। ফলে ২০১৯ এ এই কেন্দ্রটি যে বিজেপির হাতছাড়া হচ্ছে এক প্রকার বলাই যায়। তবে আলুওয়ালিয়া বা বিজেপির আশার জায়গা একটাই সেটা হল বিমল গুরুঙ্গ, রোশন গিরিরা পাহাড়ে ঢুকতে না পারলেও এখনও পাহাড়ের বিভিন্ন বাঁকে বাঁকে তাদের সমর্থকরা রয়েছে। এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও বলছে ২০১৯ এ রাজ্য থেকে ৪২ টা আসনেই তারা জিতবে। স্বাভাবিকভাবে দার্জিলিং লোকসভা আসনটি তারা নিজেদের হিসেবের মধ্যেই রাখছেন। কিন্তু গোল বাঁধছে মোর্চা নেতা বিনয় তামাং এর মতিগতির উপর। একটা বিষয় তো নিশ্চিত যে মোর্চা যেদিকে দার্জিলিং আসনটিও সেদিকে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতাদের মত হল বিনয় তামাং এর সঙ্গে তৃণমূল নেত্রীর সম্পর্ক বেশ ভাল। জিটিএ চালানোর ভার বিনয়ের হাতে তুলে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড়ের উন্নয়নের কাজেও যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করছে তাঁর সরকার। ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ওই রাজ্য নেতাদের বক্তব্য, ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে জোড়া ফুল প্রার্থীকেই সমর্থন করবে মোর্চা নেতৃত্ব। এদিকে চাপ রয়েছে বিনয় তামাং এর ওপরেও। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার একটা বড় অংশ চাইছে তাদের নিজেদের প্রতীকে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে। এই অবস্থায় বিনয় তামাং দের সঙ্গে নিজের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও একবার ঝালিয়ে নিতে তিনদিনের সফরে পাহাড়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, এমনটাই মনে করছেন রাজনীতির কারবারীরা। জিটিএ র প্রশাসনিক মূল্যায়ন বৈঠক তো একটা অছিলা মাত্র। আসলে মুখ্যমন্ত্রী দেখে নিতে চাইছেন গত প্রায় আট ন’ মাসে জিটিএকে যে টাকা দেওয়া হয়েছে সেই টাকা কোথায়, কিভাবে খরচ হয়েছে। এই হিসাবে কিছু গোলমাল খুঁজে পেলেই রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি প্রশাসনিক ভাবেও চেপে রাখা যাবে বিনয় তামাংদের। যে চাপের কাছে মাথা নুইয়ে বাধ্য হয়ে তারা তৃণমুল প্রার্থীকেই যাতে মেনে নেয়। তাইতো পাহাড়ের রাজনীতিতে আবার আনাগোনা বাড়ছে সমতলের রাজনৈতিক নেতাদের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news