নীল রায়।
রাজনৈতিক যুদ্ধের কারণে সংবাদের শিরোনামে এসেছিল কালীঘাট সংঘশ্রীর শারোদৎসব। সেই যুদ্ধে বিজেপির থেকে দক্ষিণ কলকাতার এই প্রাচীন পুজোটি ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল। কথা ছিল পুরনো কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে নতুন কমিটিও পুজো সাজানোর দায়িত্বে রাখবে থিমমেকার প্রদীপ্ত কর্মকারকে। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন! থিমমেকার বদল হয়ে গেল কালীঘাট সংঘশ্রীর পুজোর। সম্প্রতি কালীঘাট সংঘশ্রীর ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে তাদের পুজোর নতুন থিম শিল্পীর নাম। শিল্পী সাত্যকি সুরের ভাবনায় সেজে উঠবে ৭৪তম বর্ষের সংঘশ্রীর পুজো। অথচ গত বছর ডিসেম্বর মাসেই শিল্পী প্রদীপ্ত কর্মকারের নাম ঘোষণা করে। “এবার হবে কাটাকুটির খেলা”, থিমের নাম এমনটাই জানিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন কমিটি। কিন্তু, কমিটির হাতবদলের পর থিম মেকার বদল হয়েছে। সাত্যকি সুরের ভাবনায় সংঘশ্রীর পুজোর থিম “সবার উপরে মানুষ সত্য”।

২৮ জুলাই সংঘশ্রীর খুঁটি পুজো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে বাতিল হয়ে যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে পুজো কমিটির দখল নেয় তৃণমূল। রাতারাতি বদলে যায় সংঘশ্রীর পুজো কমিটিও। ৪ আগস্ট কালীঘাট সংঘশ্রীর খুঁটি পুজোয় সামিল হন এলাকার সাংসদ সদস্য মালা রায়, বিদ্যুৎমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের বহু নেতা। তাতে অংশ নিয়েছিলেন থিম মেকার প্রদীপ্ত কর্মকারও। ক্লাব কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয় নতুন কমিটির সঙ্গে কাজ করতে তাঁর অসুবিধা হবে না। শীঘ্রই পুজো সংক্রান্ত বিষয়ে প্রদীপ্তর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন নতুন কমিটির কর্তারা। কথামতো আলোচনায় বসেন দু’পক্ষই। সূত্রের খবর, প্রথম বৈঠকে দুপক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে আগের চুক্তি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তারপর খোঁজ শুরু হয় নতুন থিম মেকারের। এক্ষেত্রে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি প্রায় বিনা ‘রক্তপাতে’ সংঘশ্রীর যুদ্ধে বিজেপিকে পরাস্ত করে তৃণমূলের পক্ষে নিয়ে এসেছেন কর্তৃত্ব। ক্লাব কমিটির এক শীর্ষ কর্তার কথায়, কার্তিকদার হস্তক্ষেপেই সাত্যকি সুরকে আমরা থিম মেকার হিসেবে চূড়ান্ত করেছি।
এ প্রসঙ্গে পুজো কমিটির নতুন সম্পাদক দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,”আমাদের পুজোর থিম মেকার বদলের সিদ্ধান্তের কথা ফেসবুক পেজে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রদীপ্তর থিমের ঠাকুর আমাদের পছন্দ হচ্ছিল না। ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত সকলে চিরকাল সিংহবাহিনী মা দুর্গাকে দেখে এসেছেন। তাঁরা পদ্মে আসীন দুর্গাকে দেখতে চাইছিলেন না। আর প্রদীপ্তর থিম অনুযায়ী ঠাকুর অনেকটা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। তাই ওঁর পক্ষে ঠাকুরের রূপ বদল করা সম্ভব ছিল না। তাই আমরা প্রদীপ্তর বদলে সাত্যকি সুরকে নিয়েছি।” এ প্রসঙ্গে থিম মেকার প্রদীপ্ত কর্মকার বলেন, “ঠাকুর নিয়ে সমস্যা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু আমি বাজেটের কারণে সংঘশ্রীর পুজো থেকে সরে এসেছি।” সূত্রের খবর, পুরনো কমিটি এবছর পুজোর বাজেট ঠিক করেছিল প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। এক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছিল, বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুকে পুজো কমিটির সভাপতি করার শর্তে আর্থিক সহায়তা দিতে রাজি ছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু, নতুন কমিটির দায়িত্বে আসার পর দেখা যায় পুজো কমিটির বাজেট প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। তাই থিমমেকার বদলের সিদ্ধান্ত বলেই মনে করা হচ্ছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news