নীল বণিকঃ
কয়েক বছর আগের কথা। কামারহাটি, দক্ষিণেশ্বর, ডানলপ মোড় প্রভৃতি জায়গা ভরে গেছিল মদন মিত্রের ছবি, নাম ও জয়ধ্বনি সম্বলিত ছবিতে। ‘জননেতার’ মুক্তি চাই, এই ধরনের দাবিতে হোর্ডিংয়ে, ফ্লেক্সে তাদের আবেগ তুলে ধরছিলেন নেতার অনুগামীরা। এই ধরনের আবেগের আতিশয্যে সেদিন আশঙ্কিত হচ্ছিল মদনের ঘনিষ্ঠ মহল। তাঁদের ভয়ের কারন ছিল, এই ধরনের প্রচার চলতে থাকলে ‘দাদার গা থেকে প্রভাবশালী তকমা মোছা যাবে না। দাদারই বিপদ বাড়বে।’ তারপর নানা ভাবে মদন প্রমান করতে চেয়েছেন তিনি প্রভাবশালী নন। মন্ত্রীত্ব, দলীয় পদের বদলে তিনি পেয়েছেন বাড়ির ভাত আর নাতির আদর। গত বছর ২১ শে জুলাই রাস্তায় বসে মমতার বক্তৃতা শুনে কিংবা সল্টলেক স্টেডিয়ামের খেলা দেখার আমন্ত্রণ না পেয়ে ফুটপাথে জায়ান্ট স্ক্রীনে খেলা দেখে নিজের একটা সবার নীচে সবার পিছে ইমেজ তৈরি করছিলেন মদন মিত্র। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই হঠাৎ কী হল! মদন মিত্র কী আবার স্বমহিমায় ফিরছেন! একই নিশ্বাসে আর একটি প্রশ্ন উঠে আসছে মদন মিত্র কী ফের প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন! গতকালের, অর্থাৎ শুক্রবারের সাংবাদিক সম্মেলনের পরে এমনটাই মনে করছেন অনেকে। রীতিমতো পুরনো দাপটে দলের হয়ে কালীঘাটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন কামারহাটির প্রাক্তন বিধায়ক। পুরুলিয়ায় অমিত শাহর হাত থেকে বিজেপির বই নেওয়া ফুচুরা মদন মিত্রের হাত ধরেই ঘাসফুলের দলে যোগ দিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে গতকাল নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে (যা ভঙ্গি অনেকদিন অনুপস্থিত ছিল) বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতিকে আক্রমণ করলেন মদন মিত্র। মদন বলেন ‘অমিত শাহকে চম্বলের ডাকাত ভেবে ভয় পেয়ে পুরুলিয়ার দুই পরিবারের সদস্য কালীঘাটে চলে এসেছে।’ মদন আরও বলেন, ‘এরপরে বাংলায় এলে বাংলার মানুষ ঢুকতে দেবেন না।’ উল্লেখ্য, অমিত শাহ-র রাজ্য সফর নিয়ে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সীরাও এত চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেননি, যেমনটা করলেন সারধা কাণ্ডে অভিযুক্ত মদন মিত্র। দলের একাংশের মতে বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায় আছেন মদন। এ কারণেই দ্রুত ফর্মে ফিরছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারনা, এদিন মদন কালীঘাটের সাংবাদিক সম্মেলনে অমিত শাহকে গরম গরম কটুক্তি করে প্রথমত নিজের দলের একাংশকে বার্তা দিলেন, যে তিনি ফের প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন। সেই সঙ্গে বিরোধীদের বুঝিয়ে দিলেন, রাজনীতির মূলস্রোতে ফিরছেন তিনি। কিন্তু সেক্ষেত্রে মদন কী ফের তদন্তকারী সংস্থার চাপে পড়তে পারেন! এমন সংশয়ও করছেন অনেকে। সারধা কাণ্ডে অভিযুক্ত তিনি। প্রভাবশালী তকমা থেকে বাঁচতেই তো এতদিনের আজ্ঞাতবাস! অজ্ঞাতবাস কী শেষ হল তাঁর! নাকি অন্য কোনও ছক ঘুরছে এতদিন দাঁতে দাঁত চেপে বিবিধ অপমান সহ্য করা এই দুঁদে রাজনীতিকের মাথায়! নাকি নেহাতই আত্মসমর্পণ? দলে এখন ভাইপোরাজ। সেই নতুন হাওয়ায় গা ভাসালেন মদনও!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news