পার্থসারথি পাণ্ডা:
উৎকলের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। রানি গুন্ডিচা। তাঁদের কোন সন্তান ছিল না। ফলে, তাঁদের মনে কোন শান্তিও ছিল না। এমনি করে কতদিন কেটে গেল। রাজার মনে রানির মনে একটু একটু করে যখন বৈরাগ্যের রঙ ধরতে শুরু করেছে, যখন মনে হচ্ছে কার জন্য রাজপাট, কার জন্যই বা কি, সব ছেড়েছুড়ে বানপ্রস্থে চলে যেতে; তখনই একদিন স্বপ্নে এলেন ভগবান বিষ্ণু। স্বপ্নে বললেন, উঁহু বাপু, তোমার তো এখন বানপ্রস্থে যাওয়া চলবে না, এক শবরের নীলমাধব থেকে আমি জগতের নাথ জগন্নাথ হয়ে আসতে চাই। সকলের হতে চাই। গোপন গিরি গুহা থেকে আমাকে উদ্ধার করে দেবলয়ে প্রতিষ্ঠা করো।
কথাটুকু বলেই বিষ্ণু অদৃশ্য হয়ে গেলেন। ধড়মড় করে উঠে বসলেন ইন্দ্রদ্যুম্ন। ভগবান আদেশ দিলেন, কিন্তু পথ তো বলে দিলেন না! পথ কি তাহলে খুঁজে নিতে হবে? হ্যাঁ, তাঁর কাছে পৌঁছনোর পথ তো ভক্তকেই খুঁজে নিতে হয়। কিন্তু কোথায় খুঁজবেন? এতবড় রাজ্য, এতবড় দেশ!
তাঁকে পাবার সম্ভাবনাময় আনন্দে আর ভাবনায় সারারাত আর ঘুম এলো না রাজার। রানিকে ঘুম থেকে তুলে সব কথা বললেন। তড়িঘড়ি সভা ডেকে সব অমাত্য মন্ত্রীদের জানালেন সেকথা। এও বললেন যে, নীলমাধব অনুসন্ধানের জন্য চাই একজন সাত্ত্বিক, সুজন অথচ চতুর মানুষ। সভায় হাজির ছিলেন রাজার পুরোহিত। তিনি বললেন তাঁর ভাই বিদ্যাপতির কথা। মহারাজ যেমন চাইছেন তেমনই লোক সে। তাহলে আর কি, বিদ্যাপতিকে ডেকে রাজা তাকেই ভার দিলেন। স্ত্রীর কাছে বিদায় নিলেন বিদ্যাপতি। বেরিয়ে পড়লেন পথে।
পথ-বিপথ অতিক্রম করে একদিন তিনি পৌঁছে গেলেন নীলগিরির পাদদেশে, শবরদের রাজ্যে। কিন্তু দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে তখন তিনি ক্লান্ত ও ক্লিষ্ট। এদিকে সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। তিনি আশ্রয়ের খোঁজে এসে পৌঁছলেন বিশ্বাবসুর দরজায়। বিশ্বাবসু আতান্তরে পড়া অতিথিকে আশ্রয় দিলেন। আসল ঘটনাটা ঘটল এরপরই।
সেদিন রাত্রে, বেশ গভীর রাত তখন হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল বিদ্যাপতির। অথিতিশালার জানালা থেকে দেখলেন বিশ্বাবসু পূজার অর্ঘ্য নিয়ে চুপিচুপি রাতের অন্ধকারে কোথায় যেন যাচ্ছে। চতুর বিদ্যাপতি বুঝলেন যাঁকে খুঁজতে তিনি বেরিয়েছেন, তাঁর কাছাকাছি তিনি পৌঁছে গেছেন। সুতরাং…। তিনি জেগে রইলেন ঠায়, একসময় দেখলেন বিশ্বাবসু আবার চুপিচুপি ফিরে এলেন ঘরে। তক্ষুনি বিদ্যাপতি ছকে ফেললেন এক গভীর ষড়যন্ত্র। তারই রোমাঞ্চকর কাহিনী শোনাবো আগামী কাল, পঞ্চম পর্বে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news