নীল রায়। আবারও কী তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় গলা ফাটাতে দেখা যাবে কুণাল ঘোষকে? শনিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কালীঘাটের বাসভবনে কুণাল ঘোষের বৈঠকে পর তেমন সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে। বৈঠকে আলোচ্য বিষয় প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলতে না চাইলেও, রাজনৈতিক মহলে এমনই গুঞ্জন। বৈঠক শেষে কুণাল বলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। অভিষেকের সঙ্গেও দেখা হয়েছে। আমি পরিবর্তনের আন্দোলনের পুরোনো দিনের সৈনিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলনেত্রী। অভিষেক যুব সভাপতি। তাঁদের সঙ্গে আমার ভাল সম্পর্ক। তবে কী কথা হয়েছে সেটা বাইরে বলব না। একেবারেই দলের ব্যাপার।” প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার আগে আচমকাই কুণাল ঘোষ তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। সারধা মিডিয়ার গ্রুপ সিইও হিসেবে কুণাল ঘোষ হয়ে ওঠেন তৃণমূলের অঘোষিত মুখপাত্র। ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে কুণালকে রাজ্যসভার সাংসদ করে ঘনিষ্ঠতার পুরস্কার দেন মমতা। এই ঘনিষ্ঠতা অবশ্য বৈরিতায় বদলাতে বেশি সময় লাগেনি। ২০১৩ সালে সারধা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হন সুদীপ্ত সেন। মমতার নির্দেশেই গ্রেফতার হন কুণালও। ৩৪ মাস কারাবাসের পর বর্তমানে তিনি মুক্ত। তবে, নিজের গ্রেফতারির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকেও বেশি কুণাল দায়ী করেন পুলিশ কর্তা রাজীব কুমার ও অর্নব ঘোষকে। যাঁরা আবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছের লোক বলেই জানে প্রশাসনিক মহল। এদিকে, লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরই বিক্ষুব্ধ তৃণমূলীদের নিয়ে “নবজাগরণ” নামে একটি সংগঠন গড়ছেন কুণাল ঘোষ। যা ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এসেছে। তাই মনে করা হচ্ছে, শোচনীয় পরাজয়ে চিন্তিত মমতা আবার কুণালকে ডেকে পাঠিয়ে বিক্ষুব্ধদের থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছেন। ফলস্বরূপ তাঁকে ফের সংসদে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। আগামী বছর এপ্রিলে রাজ্য থেকে ৫টি রাজ্যসভার আসন খালি হচ্ছে। যার নির্বাচন হবে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে। তৃণমূলের সেই তালিকায় নাম থাকতেই পারে এই সাংবাদিকের!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news