দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
:
বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন কুণাল ঘোষ।
সোমবার, সংসদ ভবনের সামনে থেকে একটি ফেসবুক লাইভে কুণাল যা বললেন তাতে রাজনৈতিক ডিগবাজিতে নামডাক আছে এমন অনেক দুঁদে রাজনীতিকও সম্ভবত লজ্জা পাবেন। তাঁরা হয়তো মনে মনে ভাববেন, এই সংবাদিকতা করতে এসে সাংসদ হয়ে ওঠা অনুর্ধ পঞ্চাশ তরুনটির কাছে তাঁরা নেহাতই শিশু!
এদিন তিনি বলেছেন যে শিবির বদল তাঁর রক্তে নেই। যদিও তাঁর সাংবাদিক জীবনের আগে তিনি কংগ্রেস করতেন। তবে এটা হতেই পারে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যাওয়াকে তিনি শিবির বদল মনে করছেন না। দুটি দলকে একই শিবিরের দুটি ভাগ মনে করছেন। তাঁর রাজনৈতিক বিশ্লেষণে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি ও কংগ্রেসের পরে সবচেয়ে বেশি আসনে জিতে সংসদে যাবে। তাঁর এই হিসেবই তাঁকে এত কিছুর পরেও তৃণমূলের সঙ্গে সেঁটে রাখল কিনা তা অবশ্য তিনি খোলসা করেননি। বলেছেন, যে দল তাঁকে সাংসদ করেছে সেই দলের সঙ্গেই তিনি থাকবেন। এমনকি এদিন সংসদের সামনে তৃণমূলের একটি বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছেন তিনি।
এদিন তিনি বলেছেন, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর যে ‘বিরোধ’ হয়েছিল তা নেহাতই মতপার্থক্য এবং এটি একেবারেই ভিন্ন বিষয়। প্রশ্ন উঠছে এখানেই। তাঁর সঙ্গে তাঁর দলের এতটাই মতপার্থক্য যে তার জেরে তিনি এক বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোন তাগিদে ডেলো পাহাড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন! কোন তাগিদে ঝাড়খণ্ড থেকে তুলে এনে অ্যালকেমিস্টের কর্ণধার কেডি সিংহকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছিলেন! এমনই বিবিধ প্রশ্ন সেদিন তিনি তুলেছিলেন সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙ্গুল তুলে।
কুণাল ঘোষ তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার কিভাবে কোনদিকে নিয়ে যাবেন তা তাঁর নিজস্ব ব্যপার। তবে মমতার দৌলতে রাজনীতির আকাশে ধুমকেতুর মতো এই সাংবাদিকের উত্থান সমাজে একটি কালো দাগ রেখে গেল বলেই মনে করছেন অনেকে।
সাংবাদিকতা করাকালীন রাজনীতিতে অতিসক্রিয়তা, নিজেকে কম সাংবাদিক ও বেশি তৃণমূল অ্যাক্টিভিস্ট প্রতিপন্ন করা, মমতার ন্যুনতম সমালোচনাকে বা নামী-অনামী যে কোনও সমালোচককে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করা ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়ে নিজেকে মমতা-শুভাকাঙ্ক্ষীদের দৌড়ে প্রথম স্থানে রাখার চেষ্টা, জনমানসে তাঁর প্রতি বিরুপ ধারণার জন্ম তো দিয়েছিলই একই সঙ্গে সাংবাদিকতাকেও কালিমালিপ্ত করেছিল বলেই অনেকের ধারণা (যদিও কুণাল একজন শক্তিমান সাংবাদিক)। শুধু তাই নয় সাংবাদিকদের প্রতি সাধারণ মানুষের ধারণা যে এসময় খুব খারাপ হয়ে গেছে, সাংবাদিক মানেই, চাটুকার, দালাল, পদলেহনকারী, সাধারণের এই মনোভাব তৈরি হওয়ার জন্য কুণাল ঘোষ বহুলাংশে দায়ি বলেই অনেকে মনে করেন। এমনকি মেনস্ট্রিম রাজনীতিকদের ওপর নানা কারণে বীতশ্রদ্ধ মানুষ রাজনীতির বাইরে থেকে রাজনীতিতে আসা মানুষের কাছে বাড়তি কিছু, ভিন্ন কিছু আশা করে। কুণাল তাদের সে আশা মেটাতে পারেননি। সংবাদ মাধ্যমে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে, নিজের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লাভের স্বার্থে মিডিয়া পাওয়ারকে কাজে লাগিয়েছেন। নিজের হাতে মিডিয়া আর নিজের মাথায় মমতার হাত! এই দুটি পাওয়ার পয়েন্ট কাজে লাগিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করেছেন কুণাল, দিনকে রাত রাতকে দিন করেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের তাঁর সম্পর্কে অভিজ্ঞতা এমনটাই।
তবে জেলে যাওয়ার আগের কুণাল আর জেল থেকে বেরোবার পরের কুণালে অনেকে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করেছিলেন। নিজের ভাবমূর্তি মেরামত করতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় অংশ নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় অনেক যুক্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছেন। ধীরে ধীরে নিজেকে মহাভারতের কর্ণের জায়গায় নিয়ে গিয়ে পাবলিকের সেন্টিমেন্ট কেড়ে নিতেও সক্ষম হয়েছিলেল কুণাল।
তবে বিদ্রোহী কুণাল, স্পষ্টবক্তা কুণাল সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ করে এদিন বাঘের পোষাক ছেড়ে মমতাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘লাইনেই ছিলাম বাবা!’
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news