প্রসেনজিৎ ধর:
সবুজ বাঁচানোর অপরাধে বেদম মার পুলিশের। হুগলির কোন্নগর পৌরসভার হাতিরকুল এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটনা। প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগেই বাসিন্দারা জানতে পারেন যে, এলাকার একমাত্র মাঠটিকে প্রমোটার দখল নিতে চলেছে। তারপর থেকেই শুরু হয় সম্মিলিত প্রতিবাদ। গড়ে তোলা হয় সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক মাঠ বাঁচাও কমিটি। আজ ফের সেই মাঠে প্রমোটার চড়াও হয়েছে জানাজানি হতেই রান্না বন্ধ রেখে এলাকার পুরুষদের সঙ্গে মা-বউরাও নামেন প্রতিবাদে। ছিল প্রৌঢ়-শিশুরাও। যাদের উপর নজিরবিহীনভাবে লাঠিচার্জ করল পুলিশ। দু’একজন উর্ধধারী থাকলেও ঘটনাস্থলে অধিকাংশই ছিল সিভিক পুলিশ। যাঁদের মারে কারো হাত ভাঙল, কারো মাথা ফেটে গেল। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাটিতে ফেলে পেটানো হয়েছে বয়স্কদের। বেশ কয়েকজন মহিল গুরুতর চোট পেয়েছেন। হুড়োহুড়িতে আহত হয়েছে শিশুরাও। প্রতিবাদে শামিল হওয়া এলাকার বেশ কয়েকজন প্রৌঢ়কে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা অশঙ্কাজনক।
প্রসঙ্গত, হাতিরকুল ১ নম্বর ওয়ার্ডের এই মাঠটি গত বেশ কয়েক দশক জুড়ে এলাকার ফুসফুস। ছোটদের খেলাধুলা থেকে এলাকার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় স্কুলগুলি এখানেই বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনও করে থাকে। সম্প্রতি সেই মাঠের দখল নিতে আসে এক প্রমোটার। প্রমোটারের দাবি, যার জমি তার কাছে থেকে কিনে নিয়েছেন। কিন্তু এলাকাবাসির দাবি, সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। তাদের মতে, এই জমি মালিকানাহীন। ফলে সেটিকে কেউ দখল করতে পারে না। অতএব, তা এলাকার একমাত্র মাঠ হিসেবেই থাকবে। প্রোমোটার জবরদস্তি করতে চাইলে প্রতিবাদে নামে এলাকার সাধারণ মানুষ। গড়ে ওঠে অরাজনৈতিক মাঠ বাঁচাও কমিটি।
তবে আজকের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর মোনালিসা নাগও হতচকিত। উল্লেখ্য, শুক্রবার তৃণমূলের পুলিশের মারেই তৃণমূল কাউন্সিলরের হাত ভাঙল। তিনি বললেন, ”বলতে বাধ্য হচ্ছি পুলিশের নির্লজ্জ ভূমিকা দেখলাম। মেয়েদের গায়ে হাত দিল পুরুষ সিভিক পুলিশ।”
এদিন পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে এলাকার রাস্তা অবরোধ করে বাসিন্দারা। তারা হার মানতে রাজি না। আজকের ঘটনার পর বৃহত্তরে আন্দোলনে যেতে চায় ‘মাঠ বাঁচাও কমিটি’।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news