নীল রায়:
রাজ্যে লোকসভা ভোটে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগে বেজায় অস্বস্তিতে তৃণমূল। তারা ক্ষুদ্ধও বটে।
মঙ্গলবার রাতেই পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের জন্য বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে বিএসএফের প্রাক্তন ডিজি কেকে শর্মাকে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, গত বছর পঞ্চায়েত ভোটে যে লাগামহীন সন্ত্রাস বাংলা জুড়ে হয়েছিল তার থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। ফলস্বরূপ এই বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ। আর এই আইপিএস কর্তাকে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলার শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়া মারফত জোরালো প্রচার শুরু করেছে কমিশনের নিয়োগ করা পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় আরএসএস প্রভাবিত সংগঠন সীমান্ত চেতনা মঞ্চের অনুষ্ঠানে উর্দি পড়া অবস্থায় সংঘ নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিএসএফের ডিজির দায়িত্বে থাকা কেকে শর্মা। বিএসএফের মতো দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হয়ে আরএসএসের শাখা সংগঠনের অনুষ্ঠানে কী করে উর্দি পড়ে হাজির হয়েছিলেন কেকে শর্মা? তা নিয়ে তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন। এদিন সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়ার কর্মীরা। উল্লেখ্য, ওই ঘটনার সময় কেকে শর্মার বিরুদ্ধে সার্ভিস রুল ভাঙার অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ-এর কাছে নালিশ জানিয়েছিল তৃণমূল।
প্রসঙ্গত, ভোটের সময়ে দুই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার উপরে বিশেষ নজরদারি চালাবেন ১৯৮২ ব্যাচের আইপিএস শর্মা। তাই তাঁর নিয়োগের পর হৃদকম্পন বেড়ে গিয়েছে তৃণমূল নেতাদের।
আসলে যে কায়দায় পঞ্চায়েতে ভোট হয়েছিল বাংলায়, সেভাবে লোকসভা ভোট করা সম্ভব হবে না। একই কারণে গত বিধানসভা ভোটে গুড় বাতাসা কিংবা পঞ্চায়েত ভোটে পাঁচনের দাওয়াই দেওয়া অনুব্রত মণ্ডলের এবারের নকুলদানা ফর্মুলা ফেল করতে পারে কমিশনের পুলিশ কর্তার সক্রিয়তায়। এমনটাই মনে করছে বাংলার রাজনৈতিক মহল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news