চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
“মুকুল রায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির চাণক্য। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বসিয়েছেন, তিনিই তাঁকে ওই পদ থেকে নামিয়ে আনবেন।” লোকসভা ভোটের মতো তাঁর নেতৃত্বেই যে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি একুশের বিধানসভা ভোটে লড়বে, এভাবেই তা বুঝিয়ে দিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijayvargiya)। শুক্রবার ধর্মতলার মেয়ো রোডে আয়োজিত বিজেপির (BJP) এই কর্মসূচিতে সকাল থেকেই যোগ দিয়েছিলেন একে একে বিজেপির রাজ্য স্তরের নেতা নেত্রীরা। এসেছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিংহ।
সভায় এসেছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মুকুল রায়। অল্প সময় থেকে বক্তৃতা করেই নিজের হাওড়ার কর্মসূচিতে যোগ দিতে চলে যান দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। মেদিনীপুরের সাংসদ যখন মেয়ো রোড ছেড়ে হাওড়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন সেই সময়ই কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসেন কৈলাস। যদিও কর্মসূচিতে এই দুই নেতার বাক্যালাপ হয়নি।
দিলীপ ঘোষ সভাস্থল ছেড়ে চলে গেলে বক্তৃতা শুরু করেন কেন্দ্রীয় বিজেপির নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তাঁর বক্তৃতায় তিনি প্রাক্তন রেলমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। মধ্যপ্রদেশের এই বিজেপি নেতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির চাণক্য, মমতাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বানানো এবং তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া মুকুল রায়কে সবাই আপনারা হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানান।” এরপর তাঁর আরও সংযোজন, “যে চেয়ারে বসাতে জানেন, সে চেয়ার থেকে নামাতেও জানেন। তাঁকে সেই চেয়ার থেকে নামানোর সংকল্প মুকুলদা নিয়েছেন।” কৈলাস বিজয়বর্গীয় কথাগুলি বলার পর এই কর্মসূচি স্থলে মুকুল অনুগামীরা স্লোগান দিয়ে ওঠেন মুকুল রায় (Mukul Roy) জিন্দাবাদ। অনুগামীরা বেশ কিছুক্ষণ স্লোগান দিলে পরে মুকুল রায়ের ইশারাতেই তারা স্লোগান বন্ধ করেন।
গত লোকসভা ভোটে রাজ্য থেকে বিজেপিকে ১৮টি আসন জেতাতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন মুকুল রায়। বৃহৎ সাফল্য এনে দিলেও এখনও কেন্দ্রীয় বিজেপিতে কোনও পদলাভ হয়নি তাঁর। তবে বলা যেতে পারে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার কিঞ্চিৎ স্বীকৃতি লাভ হল মুকুলের। প্রথনবার অমিত শাহ। যিনি জনসমক্ষে বলেছিলেন, মুকুলের নেতৃত্বেই লোকসভায় ১৮ টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। যে আসনে ভর করে প্রথমবার সংসদে ৩০০-র গণ্ডী পেরোতে পেরেছে বিজেপি।
আর এবার স্বীকৃতি এল কৈলাসের তরফ থেকে।
রাজ্য বিজেপির চলতি সংস্কৃতি যখন দম্ভের প্রদর্শন ও কু-কথায় ভরে গেছে, সে সময় কৈলাসের এদিনের বক্তব্য কোনও নতুন ইঙ্গিত দিল কিনা, ধীরে চলা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলে কোনও সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কথা ভাবছে কিনা তা জানতে অবশ্য আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news