দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়:
যাদবপুর কাণ্ডের জেরে সামনে এল বিজেপির আভ্যন্তরীণ মতবিরোধ। বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী উর্মিমালা বসুকে নিয়ে অশ্লীল প্রচারের তীব্র নিন্দা করলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও অধুনা সঙ্ঘ ও বিজেপির ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী রন্তিদেব সেনগুপ্ত। গত লোকসভা নির্বাচনে রন্তিদেব বিজেপির টিকিটে নির্বাচনেও লড়েন। উর্মিমালা বসুকে ‘বামপন্থীদের যৌনদাসী’ বলে যে অবমাননাকর ও অশ্লীল প্রচার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, তার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়াতেই কলম ধরেছেন রন্তিদেব। তিনি লিখেছেন, এই ধরনের অসভ্যতা সঙ্ঘ সমর্থন করে না। কোনও মহিলাকে এই ভাবে অপমান করা সঙ্ঘের আদর্শের বিরোধী। শুধুমাত্র সঙ্ঘ নয়, কোনও মহিলার ওপর এমন অশালীন ভাষা প্রয়োগ ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেছেন রন্তিদেব।
শুধুমাত্র রন্তিদেব নয়, সঙ্ঘ ও বিজেপির সিংহভাগ এ হেন ‘অসভ্যতা’ সমর্থন করছে না বলেই বিজেপি ও সঙ্ঘের অন্দরের খবর। সোশ্যাল মিডিয়ায় রন্তিদেব এই প্রতিবাদটি লিপিবদ্ধ করলেও, তাঁর এই বক্তব্যের পিছনে আরএসএসের তো বটেই বিজেপিরও সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সমর্থন রয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
ফেসবুকে তাঁর পোস্টে শুধুমাত্র উর্মিমালাকে অপমান করা নিয়ে প্রতিবাদ করেই থেমে থাকেননি ভগিনী নিবেদিতার এই জীবনীকার। তিনি লিখেছেন, “যাঁরা উর্মিমালা বসুর প্রতি অশালীন মন্তব্য করেছেন, বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের প্রতি অশালীন ইঙ্গিত করেছেন, তারা প্রকৃতপক্ষে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ক্ষতিই করছেন।”
তথ্যাভিজ্ঞ মহলের বুঝতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না, যে এই বক্তব্যের শেষাংশটি সরাসরি বিদ্ধ করছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। যাদবপুরে বাবুল কাণ্ডের পর দিলীপ জনৈক ছাত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, ‘কোনও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছে হয়তো।’

মঙ্গলবার রন্তিদেবের এই পোস্টের পরেই বিজেপি অন্দরে শিক্ষা সংস্কৃতি ও রুচির যে ফারাকটি রয়েছে তা সামনে চলে এসেছে। সামনে চলে এসেছে আভ্যন্তরীণ মতান্তর। বিজেপি ও সঙ্ঘে এমন অনেকে রয়েছেন যাঁরা যাদবপুরের প্রাক্তনী। সঙ্ঘের নেতা ড. জিষ্ণু বসু, রাজ্যসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত তো রয়েছেনই, বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথাগত রায়ও যাদবপুরের কৃতী প্রাক্তনী। এঁরা ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন যাঁরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বা এখন পড়ান। উর্মিমালার প্রতি অবমাননাকর শব্দ বা কোনও ছাত্রীর প্রতি অশ্লীল ইঙ্গিত তাঁরা মোটেই ভাল চোখে দেখছেন না।
অনেকেই বলছেন, সেদিন বাবুল সুপ্রিয় বা অগ্নিমিত্রা পলের সঙ্গে যা হয়েছে তা অসভ্যতা। তবে অসভ্যতা পরাস্ত করতে আরও একটি অসভ্যতা মেনে নিচ্ছে না সঙ্ঘ। মেনে নিচ্ছে না বিজেপির বড় অংশ।
প্রশ্ন উঠছে খোদ রাজ্য সভাপতি যদি ছাত্রীর প্রতি অশ্লীল ইঙ্গিত করেন, তাহলে আর ছাত্রদের ‘শাসন’ করে লাভ কী!
সব মিলিয়ে যাদবপুর কাণ্ডে আলটপকা মন্তব্য করে আবার প্রশ্নের মুখে বিজেপির ফাউল মাস্টার দিলীপ ঘোষ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news