নীল রায়। আরএসএসকে জবাব দিতে জয়হিন্দ বাহিনীর সঙ্গে বঙ্গজননী বাহিনী নামে নতুন একটি সংগঠন গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নৈহাটি পৌরসভার সামনে তৃণমূলের ধরনা অবস্থানে প্রধান বক্তা ছিলেন তিনিই। সেখানেই বিজেপিকে গুজরাতের পার্টি আখ্যা দিয়ে বাঙালি ভাবাবেগ উস্কে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ফলস্বরূপ আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কে বি হেডগেওয়ারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করলেন বঙ্গসন্তান নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে ব্যারাকপুর লোকসভা থেকে জয়ী হয়েছেন বিজেপির অর্জুন সিং। যিনি মাত্র আড়াই মাস আগে জার্সি বদল করে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে ওই লোকসভায় প্রার্থী হয়েছিলেন। ১৪ হাজারের কিছু বেশি ভোটে তিনি দশ বছরের সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে পরাজিত করেন। যুদ্ধে তাঁকে যোগ্যসঙ্গত করেন আরও এক তৃণমূল ত্যাগী বিজেপি নেতা মুকুল রায়। এদিন তৃণমূল ত্যাগী এই দুই নেতাকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। সঙ্গে ব্যারাকপুরে অশান্তির জন্য নাম না করে দুই গাদ্দার বলে তাঁদেরই অভিযুক্ত করে। সঙ্গে ওই লোকসভার অধীন নৈহাটি, হালিশহর, কাঁচরাপাড়া ও ভাটপাড়া পৌরসভা তৃণমূলের হাতছাড়া হয়ে গেরুয়া হয়ে গিয়েছে। তাই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ও আরএসএসকে তীব্র আক্রমণ করে জয়হিন্দ বাহিনীর সঙ্গে বঙ্গজননীর বাহিনী নামে নতুন একটি সংগঠন করার কথা ঘোষণা করে দেন তিনি। এই দুটি সংগঠনই বাংলায় আরএসএসের মোকাবিলা কথা ঘোষণা করেন মমতা। এদিন ব্যারাকপুরের অশান্তি নিয়ে রাজ্য পুলিশ বাহিনীকেও চরম সতর্ক বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। লোকসভা ভোট চলাকালীন কমিশনের অধীনে পুলিশ ব্যারাকপুরের পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে তা উল্লেখ করেন তিনি। আগামীদিনে ব্যারাকপুর থেকে কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটলে, তিনি যে ডিজি থেকে শুরু করে নিচুতলার পুলিসকর্মীদের ওপর খড়গহস্ত হবেন, তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন সভা মঞ্চ থেকে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news