চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
অবশেষে গ্রেফতার করা হল জামাত-উল-মুজাহিদিন (Jamat-Ul-Mujahudi ) বাংলাদেশ বা জেএমবি-র অন্যতম পাণ্ডা আবদুল করিম ওরফে বড় করিম। বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে মুর্শিদাবাদের সুতি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ওই কুখ্যাত জঙ্গিনেতাকে। স্থানীয় থানার সঙ্গে মিলিতভাবে এই অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, মুর্শিদাবাদের সূতি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আব্দুলকে। এসটিএফের গোয়েন্দাদের দাবি, এই মূহুর্তে এই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের তিন শীর্ষ নেতার একজন করিম। সংগঠনের অর্থ জোগাড় থেকে বিস্ফোরক সরবরাহ এবং ‘লজিস্টিক’ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল তাঁর। বর্তমানে তিনি সংগঠনের প্রধান সালাউদ্দিন সালেহিনের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
এসটিএফের গোয়েন্দাদের আরও দাবি, গত কয়েক বছরে বড় করিম বাংলাদেশেও জেএমবি-র সালাউদ্দিন গোষ্ঠীর লোকজনদের সঙ্গে দেখা করেছে এবং বৈঠক করেছে। করিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল সালাউদ্দিন এবং বাংলাদেশে জেএমবির অন্য এক শীর্ষ নেতা মাস্টারের। এরা দু’জন ২০১৫ সালে করিমের বাড়িতেও থেকে গিয়েছেন। জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে দলাই লামার বুদ্ধগয়া সফরের সময় সেখানে বিস্ফোরণের ছক কষেছিল। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পিছনেও ছিল এই নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী জেএমবি।
বর্তমানে জেএমবি-র সংগঠন দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে এবং সালাউদ্দিন সালেহিন, জহিদুল ইসলাম-সহ শীর্ষ নেতারা ভারতে সংগঠন বিস্তার করা শুরু করেছে। খাগড়াগড়ের সঙ্গে সঙ্গে বেলডাঙা, বীরভূমের সমস্ত মডিউল ভেঙে যাওয়ায়, তারা নতুন নিয়োগ করা যুবকদের নিয়ে তৈরি করে ধূলিয়ান মডিউল। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, সূতি-সহ জঙ্গিপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় সেই সংগঠন তৈরি হয়। ধূলিয়ান মডিউলকেই ব্যবহার করা হয় বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য। এক কথায় মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমা হয়ে উঠেছিল জেএমবি জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সেই আশ্রয়স্থলকে চিহ্নিত করেই এই সাফল্য এসেছে বলে মত এসটিএফ কর্তাদের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news