Breaking News
Home / TRENDING / ‘ল্যুমাস’! রোলিংয়ের দুনিয়ার এক ঝলক

‘ল্যুমাস’! রোলিংয়ের দুনিয়ার এক ঝলক

জ্যোতিস্মিতা রায়  : 

মুদ্রা বন্দ্যোপাধ্যায় : 

অনেকেই বলে তাঁর জীবন রূপকথার মতো, আবার অনেকেই মনে করেন এটা তাঁর পাব্লিসিটি স্টান্ট। কিন্ত জনপ্রিয় লেখিকা জে কে রোলিং বলছেন, “ না, কোনও স্টান্ট নয়। এটা সত্যিই আমার জীবন,খুবই কঠিন জীবন।সত্যিই রোলিংয়ের জীবন যতই জটিল, যতটাই কঠিন ছিল, ততটাই সাহসী ছিলেন তিনি। যেন নিজের ভেতর থেকেই ‘প্যাট্রনাস চার্ম’ তৈরি করে সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পেয়েছিলেন রোলিং। নিজের মনোবলের জোরেই হয়ে উঠলেন অন্যতম বেস্ট সেলার বইয়ের জনপ্রিয় লেখিকা।
‘হ্যারি পটার’ চরিত্রটি রোলিংয়ের মনে এসেছিল অদ্ভূতভাবেই। স্কুল পাস করার পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চেয়েছিলেন রোলিং। কিন্তু, বড়লোক নন, তাই তাঁকে ভর্তি নেয়নি অক্সফোর্ড। সেদিন রেলিংয়ের মনে হয়েছিল, তাঁর জীবন শেষ হয়ে গেল। স্টেশনে বসে ট্রেনের অপেক্ষা করতে করতেই হ্যারির চরিত্র মাথায় আসে রেলিংয়ের । ১১ বছরের বাপ-মার সঙ্গহীন হ্যারি, মাসির বাড়িতে সিঁড়ির তলার আলমারিতে শোয়, চশমা পরা, কপালের ডান দিকে বিদ্যুৎ চিহ্নের দাগ, ‘মাগলসদের’ দুনিয়ার পাশেই যে একটা জাদু দুনিয়া আছে তখনও জানে না সে- এভাবেই হ্যারি পটারকে প্রথম ভেবেছিলেন রোলিং। রোলিংয়ের স্বপ্নের অক্সফোর্ড বইয়ে হয়ে য়ায় হগওয়ার্টস- জাদু দুনিয়ায় শ্রেষ্ঠ উইজার্ড স্কুল। তার পর হ্যারিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা চলতেই থাকে।


কিন্তু স্বপ্নের রূপকথায় ছেদ পড়ে। এইসময় মাকে হারান রোলিং। মায়ের খুব কাছের ছিলেন তিনি। এই ঘটনায় আবার মন ভেঙে যায় তাঁর । সব ছেড়ে চলে যান পর্তুগালে। ইংরেজি পড়াবেন বলে। সেখানে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটে যা আমূল পাল্টে দেয় রোলিংয়ের জীবন । পর্তুগালেই প্রেমে পড়েন তিনি, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ভেঙে যায় সেই বিয়ে। কিন্তু রোলিং তখন আর একা নন, কোল আলো করে তাঁর মেয়ে জেসিকা। রোলিং আবার স্কটল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফিরে আসেন রোলিং। কিন্তু আর কিছুই আগের মতো নেই। রোলিং এখন সিঙ্গল মাদার। বন্ধুদের বাড়িতে তাদের বাচ্চাদের খেলনা দেখে মন খারাপ হতো রোলিংয়ের । তাঁর মেয়ের কত কম খেলনা। সেই সময়টা নিজেকে মা, স্ত্রী, মেয়ে হিসেবে ব্যর্থ বলে মনে করতেন রোলিং। হতাশার কিনারায় দাঁড়িয়ে ফের একবার হ্যারিকেই আঁকড়ে ধরলেন তিনি। গড়গড়িয়ে চলল গল্প লেখা। এক সাধারণ ছেলের অসাধারণ হয়ে ওঠা। রন- হার্মোয়িনির মতো বন্ধু হল হ্যারির। ডাম্বলডোরের মত অধ্যক্ষ পেল সে। আর দুষ্টু উইজার্ড ভলডেমর্ট। সবমিলিয়ে তৈরি হল ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলসফার্স স্টোন’।


তবে টানটান এই গল্প কিন্তু প্রথম বার ছাপতে চাননি কোনও প্রকাশকই। অনেক দরজা ঘুরে শেষে ব্লুমসবেরি হাত ধরে রোলিংয়ের । তবে একটা শর্ত ছিল তাদের । প্রকাশকের মনে হয়েছিল কোনও মহিলার লেখা বই ছেলেরা পড়তে চাইবে না। তাই রোলিংকে বলা হল একটি এমন নাম নিতে যা মহিলার বলে মনে না হয়। বাধ্য হয়ে ঠাকুরমার নাম ‘ক্যাথলিনে’র কে যোগ করেন তিনি। জন্ম হয় জো ক্যাথলিন রোলিংয়ের।
কিন্তু তারপরেও সবকিছু ঠিক ছিল না। অনেকেই হ্যারি পটার চরিত্রটিকে তামসিক চরিত্র বলে ব্যাখ্যা করলেন। শয়ে শয়ে পোড়ানো হল রোলিংয়ের বই। কিন্তু ছোটরা হ্যারির চোখ দিয়ে অন্য দুনিয়া দেখতে পেলো। আকাশের দিকে তাকিয়ে ‘ফায়ারবোল্টে উড়ন্ত হ্যারিকে স্নিচের পিছনে ছুটতে দেখল তারা, টাইম টার্নার, পলিজ্যুস পোশন, হিপোগ্রিফ, পোর্ট কি- সব তাদের নিজের হয়ে উঠল। বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ল জাদুর ভাষা। মাগলসরা এখনও ভুরু কুঁচকালো বটে, তবে আর তাদের তোয়াক্কা করল না ক্ষুদে উইজার্ডরা।
এখন স্কটল্যান্ডেই তিন সন্তান ও স্বামীর সঙ্গে থাকেন রোলিং। তাঁকে অশেষ ধন্যবাদ লক্ষ লক্ষ শিশুর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আর বড়দের মনে এই বিশ্বাস জাগানোর জন্য যে দুই দেওয়ালের মাঝখানেই আছে এক জাদু দুনিয়া ।

 

বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

https://www.youtube.com/channelhindustan

https://www.facebook.com/channelhindustan

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *