চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো ।
জয়েন্ট এন্ট্রান্স – নিট (JEE-NEET) পরীক্ষা বিরোধীরা না চাইলেও পরীক্ষা চাইছেন খোদ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা। বুধবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স – নিট পরীক্ষা রুখতে ভারচূয়াল বৈঠক করেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা (Mamata Banerjee)। প্রয়োজনে তাঁরা পরীক্ষা রুখতে সুপ্রিমো কোর্টে যাওয়ার কথাও বলেছেন ভারচূয়াল বৈঠকে। কিন্তু পাল্টা এনটিএ দাবি করেছে, পড়ুয়াদের সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপোস করা হবে না। মানা হবে প্রতিটি স্বাস্থ্যবিধি। তারা আরও জানিয়েছে, ২০১৯ সালের নিট পরীক্ষায় পশ্চিমবঙ্গে ৬৭,৭৭৬ জন পরীক্ষার্থীর জন্য কেন্দ্র ছিল ১১২টি। এ বছর ৭৭,০৬১ জনের জন্য কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৯। সারা দেশে গত বছর ১৫.১৯ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য যেখানে ২৫৪৬টি কেন্দ্র ছিল, সেখানে এ বার ১৫.৯৭ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ৩৮৪২টি। একই ভাবে পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে জেইই-মেনেরও। পরীক্ষার দিনে (জেইই-মেন ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর আর নিট-ইউজি ১৩ সেপ্টেম্বর) পড়ুয়াদের যাতে সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছতে অসুবিধা না-হয়, তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়ে সমস্ত রাজ্যকে ইতিমধ্যে চিঠিও দিয়েছে তারা।
শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক (Ramesh Pokhriyal Nishank) বলেছেন, “পরীক্ষার্থীদের অনুরোধেই সেপ্টেম্বরে সর্বভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা (জেইই-মেন) এবং ডাক্তারির প্রবেশিকা (নিট-ইউজি) নেওয়ার বন্দোবস্ত করেছেন তাঁরা। ওই দুই পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের হল-এ পৌঁছতে যাতে কোনও অসুবিধা না-হয়, সমস্ত রাজ্যকে তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে আয়োজক সংস্থা এনটিএ-ও।” তাঁর আরও দাবি, “বহু পড়ুয়া এবং অভিভাবকেরাই লাগাতার আমাদের জিজ্ঞাসা করে গিয়েছেন যে, নিট, জেইই-র পরীক্ষা কেন নেওয়া হচ্ছে না? পড়ুয়ারা কত দিন পড়তে থাকবেন? শেষ পর্যন্ত কী হবে? কত দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে? এর আগে পরিস্থিতি বুঝে পরীক্ষা দু’বার পিছোনো হয়েছে।…জেইই-মেনের জন্য যে ৮.৫৮ লক্ষ পড়ুয়া নাম নথিভুক্ত করিয়েছিলেন, গত কাল পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে ৭.২৫ লক্ষ অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করেছেন।” শিক্ষামন্ত্রীর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষা দিতে আপত্তি নেই অধিকাংশ পরীক্ষার্থীরই।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অতিমারির আবহে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাতে মানসিক অবসাদে ভুগছেন অনেকেই। করোনার জেরে এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি দেশে। এমন পরিস্থিতিতে পড়ুয়ারা পরীক্ষা দিতে যাবেনই বা কী ভাবে? পরীক্ষা স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনও উত্তর পাইনি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিকল্প ছিল। সুপ্রিম কোর্টকে রায় বিবেচনা করার আর্জি জানাতে পারতেন। গণতন্ত্রের উপর এমন আঘাত আগে কখনও দেখিনি। পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। আমাদের ঝুঁকি নিতে হবে। পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এক সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে যাই চলুন। সেই সঙ্গে গণ আন্দোলনও করা যেতে পারে। দিকে দিকে গাঁধীজির মূর্তি রয়েছে। তাঁকে অনুসরণ করে ধর্নায় বসতে পারি আমরা।’’ তাঁর কথাকে সমর্থন করেছেন কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। এছাড়াও বৈঠকে হাজির মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরে ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন পরীক্ষা আটকানোর পক্ষে মতামত দিয়েছেন। কিন্তু বিরোধীদের এই উদ্যোগকে ব্যর্থ করে বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীরা জয়েন এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসতে আগ্রহী। সূত্রের খবর, পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে কোন ভাবেই পিছিয়ে আসবেনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার (Narendra Modi Govt.)।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news