পারথসারথি পাণ্ডা : 
আজ তেরো দিন হল জগন্নাথের টানা ধুম জ্বর । বলরাম আর সুভদ্রারও তাই । হঠাৎ জ্বর হল কেন? ওমা, কথা শোন, স্নানযাত্রায় ঘড়া ঘড়া জল গায়ে ঢাললে জ্বর না এসে পারে? এ জ্বরে তাঁদের রাজশয্যাও ভালো লাগে না। এখন তাই তিন ভাইবোনের কলমীর শয্যা, পটলের বালিশ। জগন্নাথ ভক্তেরা এই সময় সেজন্য কলমী শাক আর পটল খান না। এই জ্বরের সময় প্রভু জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রাকে পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়ার জন্যই মন্দির বন্ধ রাখা হয়। পনের দিনের মাথায় তিন ভাইবোনের জ্বর সারে। তখন তাঁরা নতুন কাপড় গায়ে দিয়ে, নতুন অলংকার পরে রথে চেপে মাইলটাক দূরে মাসির বাড়ি গুণ্ডিচায় যাত্রা করেন। এই যে যাত্রা, এটাই শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা। সেখানে মাসির আদরে আব্দারে জ্বরের পরেকার শারীরিক দূর্বলতা কাটিয়ে ঠিক ন’দিন পরে উল্টোরথে আবার বাড়ি (মন্দিরে) ফিরে আসেন । এটা তো গেল আমাদের রথযাত্রার আগে ও পরের লৌকিক ব্যাখ্যা । এবার আসুন জেনে নিই, এ প্রসঙ্গে বৈষ্ণবতাত্বিকদের ব্যাখ্যা।
এই যে আমরা জগন্নাথদেবকে ‘শ্রী’ যুক্ত করে শ্রীজগন্নাথ বলি, এর কারণ কি? আসলে, যিনিই শ্রীকৃষ্ণ, তিনিই শ্রীজগন্নাথ। নামের আগের ‘শ্রী’-তে জুড়ে আছেন রাধা। রাধার জন্য শ্রীকৃষ্ণ যেমন ব্যাকুল, তেমনি শ্রীজগন্নাথের আকুলতারও যেন শেষ নেই। তাই স্নানযাত্রার পর এই যে জ্বর, সেও আসলে শ্রীরাধাকে দেখার প্রবল ইচ্ছে এবং দেখতে না-পাওয়ার বেদনায় বিরহজ্বর। এই বিরহের জন্যেই তাঁর রাজশয্যা ছেড়ে কলমীর শয্যায় শয়নের কৃচ্ছসাধনা। শেষে বিরহের আবেশ কমে গুণ্ডিচায় নিয়ে যাওয়ার আশ্বাসে। কৃষ্ণভক্তদের কাছে, জগন্নাথদেবের কাছে গুণ্ডিচাই হল শ্রীবৃন্দাবন, সেখানে থাকেন তাঁর দয়িতা শ্রীরাধা। তিনিও সেখানে দীর্ঘবিরহ যাপন করছেন শ্রীজগন্নাথের পথ চেয়ে। রথযাত্রার মধ্য দিয়ে দুজনের অবসান হয় বিরহের, মিলনে কাটে বিরহের জ্বালা। এখানে প্রেমে অনুরাগে ন’দিন কাটিয়ে আবার ফিরে আসেন শ্রীজগন্নাথ। রথযাত্রায় রথের রশি টেনে এই দুই চিরন্তন প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনের সহায় হয়ে ভক্তকুল লাভ করেন অশেষ পুণ্য আর অঢেল আনন্দ।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news