কিশোর ঘোষঃ

মোহনদাস করমচাঁদ গাঁধী একাই দেশ স্বাধীন করেছিলেন।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আর কারও অবদান নেই। বস্তুত তিনি একাই দেশ ছাড়া করেছিলেন ব্রিটিশদের। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীকা, বাংলা থেকে পাঞ্জাব—আর বিপ্লবী ছিল না, আর কেউ দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেননি। এরাকমটাই কি মনে হয় না মাঝে মাঝে?
সরকারি অফিসের দিকে তাকালে তাই মনে হয়। দেশের প্রশাসনিক ভবনগুলিতে তাঁর ছবি, তাঁর মূর্তি বড় করে। অন্যরা আছেন তবে কতকটা অবহেলায়। মোদ্দা কথা গাঁধীর যেখানে ঠাঁই হয় সেখানে অন্যরা না। যেমন গত ৭১ বছর ধরে ভারত রাষ্ট্রের মুদ্রায় কেবল তাঁর ছবি। স্বাধীন ভারতের অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে তাঁর নাম জুড়ে দেওয়াটাই নিয়ম। দেশের মানুষের টাকায় নির্মিত নতুন ভবনগুলির নামের ক্ষেত্রেও তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে সর্বাগ্রে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, স্বাধীন ভারতে কেবল তাকেই গুরুত্ব দেওয়া হোক এমনটা কি মহাত্মা গাঁধী নিজে চাইতেন? আমার মনে হয় কখনই না। যে মানুষটা চাইলেই ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে বসতে পারতেন। দুই দেশের মানুষের অতি প্রিয় নেতা হওয়া সত্বেও যিনি পদ ছেড়েছেন হেলায়। ক্ষমতায় তাঁদেরই বসিয়েছিলেন যাঁরা ক্ষমতা পেতে চেয়েছিলেন, সেই মানুষটা এই অন্যায়কে কখনই পছন্দ করতেন বলে মনে হয় না। এমনকি মোহনদাস করমচাঁদ গাঁধী এমন এক মানুষ ছিলেন যিনি নিজের দর্শনে অটুট থেকেও অন্যকে সম্মান করতে জানতেন। কিন্তু তিনি যা জানতেন না তা হল—একদিন জাতীয় কংগ্রেসের বিজ্ঞাপনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডার হয়ে উঠবেন তিনি। যাঁর আত্মজীবনীর নাম ‘দ্য স্টোরি অব মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ’, যাঁর জীবনটাই ছিল সত্যের অনন্ত অন্বেষণ, সেই তিনি একদিন মুর্খের আচার হয়ে উঠবেন তা মহাত্মা হয়তো স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। অথচ তাই হল।
গাঁধী হয়ে উঠলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর নীতি, দর্শন, ভাবনা নিয়ে যে পড়াশোনার ধারকাছে যায়নি সে বাথরুমে যাওয়ার সময়ও মাথায় পরে নিল গাঁধী টুপি, খদ্দর ইত্যাদি। অনেকটা ব্রাহ্মণের ছেলে ব্রাহ্মণ টাইপ অশিক্ষা। ব্রহ্মজ্ঞান বিষয়ে যাদের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই…। অতএব অতি সরু গোল ফ্রেমের চশমাধারী লাঠি হাতে মানুষটা কংগ্রেস সরকারের বদান্যতায় হয়ে উঠল লাভজনক প্রচার মডেল। উল্টো দিকে গাঁধীকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে অবহেলা করা হল ভারতের হাজার হাজার স্বাধীনতা সংগ্রামীকে।
অথচ সত্যিটা হল গোটা দেশের যত মানুষ যত ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁরা সকলেই ব্রিটিশদের ভারত ছাড়ার কারণ। তাঁদের সকলকেই শ্রদ্ধায় স্মরণ করা উচিত আমাদের। যদিও সেই কাজ যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু তাই বলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ভুলে গেলাম কী করে আমরা? কী করে ভুললাম ভগৎ সিংয়ের অবদান? লাল লাজপৎ রায়, চিত্তরঞ্জন দাস, বাল গঙ্গাধর তিলক, বল্লভভাই প্যাটেল, আবুল কালাম আজাদের নাম মনে থাকবে না আমাদের?
নামের তালিকা ইচ্ছে করলেই বাড়ানো যায়। কিন্তু সেটা বড় কথা না। আসল কথা হল, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে মহাত্মা গাঁধীর বিপুল অবদানের কথা মনে রাখতে হবে নিশ্চই, তাই বলে অন্যদের অবদানকে ভুল যাওয়া মানে দেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। অর্ধশতকের বেশি সময় ধরে শাসন ক্ষমতায় থেকে সেই কাজই করেছে কংগ্রেস। নিজেদের সুবিধার্থে, কংগ্রেস ইগো ডেভলপমেন্টে গাঁধীকে কাজে লাগিয়েছে তারা। তাই দেখি আজও উন্নয়ণ নয়, বরং ‘গাঁধী’ শব্দটির নৌকোয় চেপে ভোটের দরিয়া পার হতে চায় দলটি।
তাই গুরুত্ব পান না সুভাষচন্দ্র বসু, ভগৎ সিংয়ের মতো বীর বিপ্লবীরা।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news