পার্থসারথি পাণ্ডা:

সারদা মা চাঁদের কাছে প্রার্থনা জানাতেন, আমায় তোমার মতো নির্মল করে দাও! যিনি নিজেই এত নির্মল, তিনি এমন প্রার্থনা জানাতেন কেন? আসলে, ধর্মের মধ্য দিয়ে সাধনার পথে নির্মলতারই তো প্রয়োজন। মনুষ্যত্বে ময়লা জমলে সেখানে আর ধর্ম বাস করে না। কান্তকবি রজনীকান্ত সেন তাঁর একটি গানে তাই প্রার্থনা জানিয়েছিলেন– ‘ তুমি নির্মল কর মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’। মা সারদা অসংখ্য ভক্তশিষ্যকে গুরুমন্ত্র দিয়ে দীক্ষা দিয়েছেন ধর্মময় মোক্ষ পথে। আপনি আচরি ধর্ম, অপরে শেখানোই হল গুরুর শিক্ষাদানের অঙ্গ। তাই মা চাঁদের কাছে নির্মলতা চেয়ে আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন সতত নির্মলতা কামনা করার এবং অমলিন আচরণ করার।
ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবও তো দীক্ষা দিয়ে কত পাপীতাপীকে উদ্ধারের পথ দেখিয়েছেন। শিষ্যেরা প্রায়ই অভিযোগ করতেন যে, আত্মভোলা ঠাকুর পায়ে এসে পড়লেই যাকে তাকে দীক্ষা দিয়ে দেন! ঠাকুর হেসে তাদের বুঝিয়ে দিতেন যে, তিনি আচার দেখে দীক্ষা দেন না, দীক্ষা দেন আধার দেখে। আর তিনি তো তাদের গুরু সেজে বসেন না, গুরু মানতে বলেন সেই অন্তর্যামী ইষ্টকে, যাকে তারা নিত্যদিন ভজনা করে। তিনি তো শুধু কানে দেন বীজমন্ত্রটুকু। সেই মন্ত্র জপ করে যাতে তারা তাদের ইষ্ট পায়, সেইপথটিই তিনি দেখিয়ে দেন।
ঠাকুরের দেখানো পথে চলতে চলতে তারা কিন্তু ঠাকুরকেই গুরু মেনে নেন। কারণ, ঠাকুরের কাছে দীক্ষার বীজমন্ত্র নেবার সৌভাগ্য যাদের হয়েছে তাঁরাই সেই মন্ত্রলাভের মুহুর্তে এক অনির্বচনীয় অনুভুতির কথা বলেছেন। তিনি ইষ্টকে গুরু মানতে বললেও ভক্তদের অন্তরে তিনিই হয়ে উঠেছেন একাধারে গুরু ও ইশ্বরের অবতার। গুরুর আসন মস্তিষ্কের সহস্রদলে আর ঈশ্বরের আসন হৃদকমলে। তাই ঈশ্বরের সাথে সাথে গুরুও আমাদের কাছে পরমপূজ্য। তাই ঈশ্বরপথের কাণ্ডারী গুরুকে নিত্যপুজো ছাড়াও গুরুপূর্ণিমার দিন বিশেষ পুজো করা হয়, এই পুজো- উপাসনার মধ্য দিয়ে একইসঙ্গে নিজের গুরু, জগৎগুরু এবং ঈশ্বরকে পুজো-উপাসনার ফল লাভ করা যায়।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news