পার্থসারথি পাণ্ডা:
বেদের কাল থেকেই আমরা দেখছি আমাদের শাস্ত্রবিদ্যা বলুন, শস্ত্রবিদ্যা বলুন, কারিগরীবিদ্যা বলুন, সাধনা বলুন বা মোক্ষ পথের সন্ধানই বলুন সমস্তই গুরুমুখী। মহর্ষি বাল্মীকি শ্রীরামচন্দ্র ও তাঁর ভাইদের শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করে শিক্ষাদান করার আগে উপদেশ দিয়েছিলেন, সামনে যদি ঈশ্বর আর গুরু এসে দাঁড়ান, তাহলে প্রথমে গুরুর চরণে প্রণাম করতে হয়, তারপর ঈশ্বরকে। এ প্রসঙ্গ অবতারণা করলাম এটাই বলার জন্য যে, ভারতীয় ঐতিহ্যে গুরুর স্থান সবার ওপরে। তাই গীতায় গুরুবন্দনাতে বলা হচ্ছে– ‘ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া চক্ষুরীন্মিলীতং যেন তস্মৈশ্রীগুরবে নমঃ।’
তিনি তাঁর জ্ঞান দিয়ে আমাদের মনের অন্ধকার দূর করেন, এর থেকে বড় প্রাপ্তি আমাদের আর কিই বা হতে পারে! তাই তাঁকে বন্দনা করে আবার বলা হচ্ছে– ‘গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেব মহেশ্বর, গুরু সাক্ষাৎ পরমব্রহ্ম তস্মৈ শ্রী গুরবে নমঃ’। গুরু ব্রহ্মের সমান মহান, তাঁর স্থান শিষ্যর মস্তিষ্কে। সেখানেই থাকে সহস্রদল পদ্ম। সেই পদ্মই তার আসন। সাধনা পথ সেখানে গিয়ে, তার পদপ্রান্তে গিয়ে শেষ হয়। আমাদের পথ বলে দেওয়াতেই তার আনন্দ আর আমাদের আনন্দ সেই পথ চলাতেই।
এবার বলি, গুরু পূর্ণিমার কথা। শ্রাবণের এই পূর্ণিমা তিথিতেই জন্ম নিয়েছিলেন ব্যাসদেব। তাঁর জন্মতিথির এই পূর্ণিমাকে গুরু পূর্ণিমা বলা হয়। এখন প্রশ্ন, বলা হয় কেন? এর একটাই কারণ, তিনি পাণ্ডিত্য, সাধনা, সম্মানে গুরুরও গুরু ছিলেন। তিনি যে ভারত মহাকাব্য রচনা করেছিলেন, তাতে ধারণ করেছিলেন সমগ্র জাতির আত্মাকে। তাঁর এত শিষ্য ছিল যে, তাঁদের মুখে মুখেই সেই ভারতগাথা ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র দেশে। ব্যাসদেবই প্রথম পণ্ডিত, যিনি বেদ বিভাজন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। রচনা করেছিলেন আঠারো পুরাণ ও উপপুরাণ। তাই তাঁর আগে ও পরে কতশত গুরুর আবির্ভাব হলেও, পরম গুরু বলতে সেই একজনই। তাঁকে সেই সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্যই তাঁর জন্মদিনের তিথিটি গুরুপুর্ণিমা হিসেবে পালন করা হয় সারা দেশে বহু বছর ধরে।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news