চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
দাবানলের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে জঙ্গল। পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে গাছপালা থেকে জঙ্গলের প্রাণীরা। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল উত্তরাখণ্ড পুলিশ (Uttarakhand Police)। বুধবার উত্তরাখণ্ডের জঙ্গলে দাবানলের (Forest Fire) ঘটনা গুজব বলে দাবি করল রাজ্যের পুলিশ। এমনকি গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এদিন উত্তরাখণ্ডের ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) অশোক কুমার জানিয়েছেন, দাবানলের ঘটনা নিয়ে যাঁরা গুজব ছড়াচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এফআইআর করাও হতে পারে। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অশোক কুমার বলেন, “উত্তরাখণ্ডের জঙ্গলে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সত্যি নয়। যে ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানো হচ্ছে সেগুলি ২০১৬ সালের উত্তরাখণ্ডের দাবানলের ছবি। এমনকি তার মধ্যে কিছু ছবি বিদেশেরও রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মানুষের কাছে আবেদন করছি গুজব ছড়াবেন না। যাঁরা গুজব ছড়াবেন তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে। এমনকি কঠোর আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।” শুধু পুলিশই নয় দাবানলের ঘটনা গুজব বলে দাবি করেছেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিংহ রাওয়াত। তিনি টুইট করে বলেন, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালের চিলি ও চীনের দাবানলের কিছু পুরনো ছবি দিয়ে ভুয়ো প্রচার চলছে। আমি প্রত্যেকের কাছে অনুরোধ করছি এই ধরনের প্রচার করবেন না। গতকাল পর্যন্ত অগ্নিকান্ডের যে খবর পাওয়া গিয়েছে, তা গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কম।”
উত্তরাখান্ড সরকারও প্রচার নিয়ে মানুষকে সচেতন করছে। সরকারি সূত্রে খবর, উত্তরাখণ্ডের জঙ্গলে দাবানলের ঘটনা ঘটেছে ঠিকই। কিন্তু তা অন্য বছরের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবি দেখানো হচ্ছে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই বছরের ছবি না বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। ওই ছবিগুলি বিগত কয়েক বছর আগের বা অন্য কোন দেশের বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ছবি বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ডের বনাঞ্চলে এখনও পর্যন্ত টানা ৫ দিনের দাবানলে ৭১ হেক্টরের বেশি বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে খবর। প্রায় ১.৩২ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বন দফতরের। কুমায়ুন অঞ্চল থেকে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে নৈনিতাল, আলমোরা, দেরাদুন ও তেহরি এলাকাতেও। এই পরিস্থিতিতে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বন দফতর ও দমকলের কর্মীরা। এমনকি এই দাবালনের ফলে অশনিসংকেত দেখছেন পরিবেশবিদরাও। যেভাবে ধোঁয়া ও ছাই বাতাসে মিশে যাচ্ছে তাতে পরিবেশে ব্ল্যাক কার্বণের পরিমাণ অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি এই দাবালনের ফলে উত্তর ভারতের তাপমাত্রা ০.২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।
ছবি সৌজন্যে এএনআই
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news