চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
একই দিনে সিপিএম-তৃণমূল (CPM-TMC) ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিলেন দুই প্রাক্তন বিধায়ক। একজন প্রথমজন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর থেকে নির্বাচিত বিধায়ক হয়েছিলেন সিপিএমের প্রতীকে। দ্বিতীয় জন ২০১১ সালে কংগ্রেস – তৃণমূলের জোটের প্রার্থী হিসেবে হাত প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছিলেন গাজোল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। অন্যজন পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক স্বদেশরঞ্জন নায়েক এবং দুই মালদার গাজলের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুশীল চন্দ্র রায়। দুই বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) দাবি, ওই দুই এলাকায় তৃণমূলের পা কেঁপে যাবে।
গাজলের প্রাক্তন বিধায়ক সুশীল চন্দ্র রায় ২০১১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন তিনি। ১৯৭৭-২০০৬ পর্যন্ত সব ভোটে গাজোল ছিল কাস্তে হাতুড়ি তারার দখলে। ২০১১ সালের ভোটে কংগ্রেস জেতে ওই আসন। পরে তৃণমূলে যোগ দেন সুশীল রায়। কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সুশীল রায়কে ভাঙিয়ে নিয়েছে তৃণমূল। প্রসঙ্গত, গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রটি আবার মালদা উত্তর লোকসভার মধ্যে পড়ে। সেখানকার সাংসদ বিজেপির খগেন মুর্মু। তিনি সিপিএমের নেতা ছিলেন। জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর দাপুটে নেতা ও হাবিবপুরের তিনবারে বিধায়ক ছিলেন। তার দৌলতেই সুশীল রায় বিজেপিতে যোগ দিলেন। যদিও আরো একটি কানাঘুষো রয়েছে গাজোলে। তাহল ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন সিপিএমের দিপালী বিশ্বাস। ওই বছরই একুশে জুলাই তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। ফলে গাজোল থেকে আর সুশীল রায়ের টিকিট পাওয়ার কোনো আশা নেই। তাই অংক কষেই গেরুয়া শিবিরে গিয়েছেন তিনি।
স্বদেশ নায়েক আবার দীর্ঘদিনের সিপিএম নেতা। শঙ্করপুর এলাকার বাসিন্দা তিনি। ২০০৬ সালে তৃণমূলের সমরেশ দাসকে হারিয়ে বিধায়ক হন তিনি। ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে সমরেশ দাস এগরা থেকে বিধায়ক হন। গত মাসেই সমরেশ দাস করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। যদিও ২০১১ সালে তৃণমূলের অখিল গিরির কাছে পরাজিত হন স্বদেশরঞ্জন নায়েক। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনৈতিক মহলের মতে, দিঘা, শঙ্করপুর-সহ সমগ্র রামনগর এলাকাতেই স্বদেশরঞ্জন নায়েকের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাছাড়া তাঁর পিছনে লোকবলও রয়েছে। সিপিএম সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই জেলা সিপিএম নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন স্বদেশরঞ্জন নায়েকের। পূর্ব মেদিনীপুরের সিপিএম জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি ও রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর তরফে জেলার দায়িত্বে থাকা রবীন দেবের সঙ্গে সংঘাতেই পার্টি ছাড়ার বিষয়ে মনস্থির করে নেন তিনি। শেষমেশ এদিন যোগ দিলেন বিজেপিতে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news