Breaking News
Home / TRENDING / খেলা ঘোরানোর ব্রহ্মাস্ত্র এখনও মমতার হাতে, পদ্মগাড়িতে দক্ষ চালক বসান অমিত

খেলা ঘোরানোর ব্রহ্মাস্ত্র এখনও মমতার হাতে, পদ্মগাড়িতে দক্ষ চালক বসান অমিত

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়:

৩০ জুন, রবিবার। নয়াদিল্লি। অমিত শাহ।
এই সেই স্থান কাল পাত্র, যার দিকে তাকিয়ে আছে রাজ্য বিজেপি। শুধুমাত্র রাজ্য বিজেপি নয়, রাজ্য রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত অনেকেরই আগ্রহ এখন আবর্তিত হচ্ছে এই স্থান-কাল-পাত্র ঘিরে।
অমিত শাহ এইদিন বৈঠক করবেন পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের নিয়ে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গেলে বাংলা ভাষার অনেকগুলি প্রবাদ প্রবচন একসঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। তাহলেও সবটা বোঝানো যাবে কি না সন্দেহ। নানা মুনির নানা মত বললে, বিজেপি নেতারা রে রে করে উঠবেন। বলবেন, গণতান্ত্রিক দলে এটাই দস্তুর। মতের ভিন্নতা থাকলেও সিদ্ধান্ত আমাদের একটাই।
এইসব ‘শুনতে ভাল’ কথায় ভোটের চিড়ে কতটা ভেজে, এই প্রশ্ন তোলাও এখন বিপজ্জনক। সবে মাত্র বিজেপির ‘বুকে আঠারো এসেছে নেমে’ তাই বিপ্লব থুড়ি রাষ্ট্রবাদ স্পন্দিত বুকে, দলে সবাই এখন মোহন অথবা মোদি।
যদি বলা হয় অধিক সন্যাসীতে গাজন নষ্ট তাহলে শুনতেই হবে, নষ্টটা কিসে দেখলেন মশাই? লোকসভায় তৃণমূলকে কেমন দিলাম?
এক্ষেত্রে প্রবাদ-প্রবচন গুলি একেবারে যথার্থ নয় এমনটাও যেমন বলা যাবে না উল্টোদিকে উত্তর গুলিও উড়িয়ে দেবার নয়।
গোলটা আর একটু গভীরে…
একটাই গাড়ি। গাড়ির গন্তব্যও একটাই। নবান্ন। গাড়ি যাতে কোনও অবস্থাতেই লক্ষ্যে পৌছতে না পারে তার জন্য মোড়ে মোড়ে অবরোধ, পথে পথে কাঁচের বোতল ভেঙে ফেলে রাখছে মন্দার বোসের দল। এমতাবস্থায় একটা গাড়ির পাঁচটা চালক হলে গাড়ির যে আর গন্তব্যে পৌছনো হয় না, সে কথা ব্যখ্যা করে বলার প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র একজন দায়িত্ববান চালক নন, দক্ষ চালক দরকার। যে এই কণ্টকাকীর্ণ বিপদসঙ্কুল পথে পদ্মশোভিত গাড়িটিকে নিরাপদে নবান্নে পৌছে দিতে পারে।
ভণিতা ছেড়ে একটি কথা স্পষ্ট করে বলাই ভাল প্রয়াত তপন শিকদারের সময় এই রাজ্যে বিজেপি যে উচ্চতায় উঠেছিল, পরবর্তীতে পতন বই অন্য কিছু হয়নি। মোদি হাওয়া পালে লাগিয়ে দিলীপ ঘোষ রাজ্য বিজেপির হালে কিছুটা পাণি এনেছিলেন ঠিকই কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। যথেষ্ট যে নয় সে কথা দিলীপ ঘোষ স্বয়ং জানেন ও মানেন। যথেষ্ট যদি হতো তাহলে বিজেপিও মুকুল রায়ের বিষয়ে আগ্রহ দেখাত না আর মুকুল রায়ও হয় তৃণমূলে ভাইপোতন্ত্রের সঙ্গে আপোষ করে কাটিয়ে দিতেন কিংবা অন্য যা হয় কিছু একটা করতেন। তাঁর বিজেপিতে যাওয়া আর তাঁকে বিজেপিতে নেওয়া, এই দুটি ঘটনাতেই স্পষ্ট, লক্ষ্যপুরণে দিলীপ ঘোষরা যথেষ্ট ছিলেন না। রাজ্য বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের মেয়াদ ফুরিয়েছে বেশ কিছুদিন হলো। সভাপতিত্বে
তিনি এখন বর্ধিত সময়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ওপর সাংসদ হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সময়েও টান পড়েছে। তবু তিনি এখনও সভাপতির আসনে। উল্টোদিকে মুকুল রায়। তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর লড়াইটা রাজনৈতিক তো বটেই, তবে রাজনীতির সীমা ছাড়িয়ে এটা তাঁর ব্যক্তিগত লড়াই বললেও সম্ভবত ভুল বলা হয় না। তাঁর রাজনৈতিক যোগ্যতা ও ভোটবুদ্ধি রাজ্য বিজেপিতে কারও সঙ্গেই তুলনীয় নয়। অতি ঈর্শ্বাকাতর ছাড়া এইসব ব্যাপারে কেউই মুকুলকে ছোট করতে চান না। বরং তাঁর রাজনৈতিক মেধা বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের কারও কারও সমগোত্রীয় বলেই পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। তবে যোগ্যতাই সব সময় শেষ কথা বলে না। যোগ্যতা একপ্রকার অযোগ্যতাও বটে। লোকসভায় ১৮ টি আসন জয় করার পিছনে যাঁর মস্কিষ্ক, যাঁর হাতযশ, তিনি যে মুকুল রায় তা মোদি-অমিত জানেন। তাঁরা জানেন কিনা জানা নেই এই ১৮ সংখ্যাটি বেড়ে ২৫ হতে পারত, দলের মধ্যেই যদি মুকুলের পাঞ্জাবি ধরে টানা না হতো।
রাজ্য বিজেপিতে এখন মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দুটি বিষয়। এক, রাজনীতির বাস্তববোধ আর দুই, একপ্রকার ভণ্ড আবেগ। ভণ্ড আবেগই বলতে হচ্ছে। কারন যাঁরা তৃণমূল থেকে যোগদান করলে দলের শুচিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, বেনোজল বেনোজল বলে বাজার মাত করছেন, দলের পবিত্রতা নিয়ে গলা চড়াচ্ছেন, এসব করার আগে তাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন। লোকসভা নির্বাচনে কেন বহু প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে খরচের নিমিত্ত যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল তার পুরোটা তারা হাতে পাননি। প্রয়োজনীয় খরচ করতে পারেননি। জেলা সভাপতিদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে, এমনও অভিযোগ আছে, প্রার্থী পছন্দ হয়নি বলে সেই টাকা সেই সভাপতি প্রার্থীর প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করেননি। বুথ খরচের টাকা সব জায়গায় পৌছয়নি। এমন অভিযোগও ভোটের সময় প্রার্থীরা বারংবার করেছেন। এই কথাগুলো এই জন্যেই উল্লেখ করলাম তৃণমুল থেকে যারা আসছে তারা সব অসৎ আর বিজেপির সব নেতা কর্মী ধোয়া তুলসীপাতা, যারা বিচার করবে কে আসবে আর কে আসবে না, এটা যেমন হাস্যকর তেমনই বিজেপির পক্ষে ক্ষতিকর। সর্বোপরি রাজ্যে যে পরিবর্তনের পরিবর্তন হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, সেই সম্ভাবনার জন্যও ক্ষতিকর। যারা বলছেন একুশের আগে দলে সংগঠন তৈরি করতে হবে, তাঁদের সাংগঠনিক বুদ্ধি প্রশ্নের মুখে। কিংবা তাঁরা সংগঠন বলতে ঠিক কি বোঝেন তা এই অধম কলমচির জানা নেই। তার চেয়ে অনেক সহজ ও স্বাভাবিক পথ বিপক্ষের সংগঠন দুর্বল করে দেওয়া। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের একটি অংশ এই সহজ কথাটি হয় জানেন না, না হলে সব জেনে বুঝেও নিজেদের কর্তৃত্ব হারানোর ভয়ে না বোঝার ভান করছেন। আর দলীয় শুচিতা রক্ষার মেকি ভেক ধরে, মুরলীধরে নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে চাইছেন।
এরই মধ্যে মমতা ও তাঁর পেশাদার পিকে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। মানছি কাটমানিতে মমতা নিজেই ভোক্কাটা হয়েছেন। একজন ফঁড়ের উদ্যোগে আবার তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় হয়েছেন। মানছি, তাঁরা কেন শুধু ভাটপাড়া যাচ্ছেন, কেন পাত্রসায়র নয়, এই প্রশ্ন তুলে মুকুল তাঁদের উদ্দেশ্যটাই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন।
তার মানে এমনটা ধরার কোনও কারন নেই প্রশান্ত কিশোরের সব কৌশলই ভোঁতা হবে, মাঠে মারা যাবে। মমতা মরিয়া হয়ে ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছেন। কে বলতে পারে তিনি এমন কোনও চাল দেবেন না যাতে পুরো ছবিটাই মুহুর্তে বদলে যাবে?
সময় হয়েছে নবান্নগামী পদ্মগাড়ির একটি চালক নির্দিষ্ট করে দেবার। দক্ষ চালক। রাস্তা চেনে এমন চালক।
দল ও মানুষের মন এক ঝটকায় নিজের দিকে ফিরিয়ে নেবার মতো ব্রহ্মাস্ত্র এখনও মমতার হাতে আছে।
রবিবারের বৈঠকে অমিত শাহ সেটা মাথায় রাখলেই মঙ্গল।

 

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

2 comments

  1. gejano ta besi hoe gache choto kore likle purota portam eto time nei karo hate

  2. Harabilas Chakraborty

    Absolutely correct , many many thanks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *