Breaking News
Home / TRENDING / ইস্টবেঙ্গলের এই ফুটবলারের সাহসটা দেখুন

ইস্টবেঙ্গলের এই ফুটবলারের সাহসটা দেখুন

প্রসেনজিৎ মাহাতো:

ইস্টবেঙ্গলের জীবনকৃতি সম্মান পাওয়ার থেকেও মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের কাছে সেরার সেরা স্মৃতি ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে প্রথম দিন মাঠে নামার অভিজ্ঞতা। ছোটবেলা থেকেই ইস্টবেঙ্গলের অন্ধ ভক্ত। তারপর ইস্টবেঙ্গল জার্সি গায়ে চাপানোর প্রসঙ্গ উঠতেই এখনও রোমাঞ্চিত মনোরঞ্জন। ক্লাবের তরফে জীবনকৃতি হিসেবে মনোরঞ্জন ও ভাস্কর গাঙ্গুলি নাম সরকারি ঘোষণার পর কথা বললেন মনোরঞ্জন।
ইস্টবেঙ্গলে তঁার পরিচিতি মনোরঞ্জন নয়, লাল–হলুদ তঁাকে ডাকত ‘আমাগো মনা’ বলে। হ্যাঁ, মনোরঞ্জন আর ইস্টবেঙ্গল একটা সময়ে একই মুদ্রার এপিঠ–ওপিঠ। ১৯৮১ সালে ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক নির্বাচিত হলেও, লাল–হলুদের যত বছর খেলেছেন তিনিই ছিলেন আসল নেতা। ১৯৭৭ সালে ইস্টবেঙ্গলে প্রথম সই। তারপর সময় যত গড়িয়েেছ ইস্টবেঙ্গলে মনোরঞ্জন হয়ে উঠেছেন ‘আমাগো মনা।’ একেবারে নিখাদ ঘরের ছেলে। সেই ঘরের থেকে যখন কোনও সম্মান মেলে তার অনুভূতি বর্ণণা করতে গিয়ে অভিভূত মনোরঞ্জন, ‘ইস্টবেঙ্গলের এই সম্মান আমার কাছে অন্যরকম একটা ব্যাপার, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তার থেকেও বিরাট ব্যাপার ইস্টবেঙ্গলে খেলা। চোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম এই ক্লাবে খেলব। ভগবান আমাকে কোনও বর দিতে চাইলে আমি বলতাম ইস্টবেঙ্গলে খেলব। মন থেকে চেয়েিছলাম বলেই হয়তো এতটা পথ পেরোতে পেরেছিলাম।’
টানা ১৪ বছর ইস্টবেঙ্গলে খেলেছিলেন। পরে আরও একটা বছর। লাল–হলুদে খেলোয়াড় জীবনে প্রথম বছরটা কাটানোর পর কোনওদিন টিম লিস্টই দেখতেন না। দেখার প্রয়োজন পড়ত না। মনোরঞ্জনের আত্মবিশ্বাস বাকিদের থেকে ঢেরগুণ বেশি ছিল। মনোরঞ্জনের কথায়, ‘ঈশ্বর আমাকে দুটো জিনিস দিয়েছিল। স্বাস্থ্য এবং মনের জোর। এই দুটোই ছিল আমার খেলোয়াড় জীবনের অস্ত্রাগারের প্রধান অস্ত্র। তা নিয়েই লড়ে গেছি। আমি কীরকম খেলেছি, সেটা আমার থেকে সমর্থকরা ভাল বলতে পারবেন। কিছু পাওয়ার আশায় খেলিনি, ভাল লাগা থেকে খেলেছি। ইস্টবেঙ্গলের থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি।’ মনোরঞ্জনের মনের জোরের নিদর্শন রয়েছে প্রচুর। জ্বর নিয়ে পুরো ম্যাচ খেলা। ভাঙা নাক নিেয়ও লড়াই চালিয়ে যাওয়া। কুঁচকিতে ঘা নিয়েও ম্যাচ খেলে দলকে সাহায্য করা। কোচ পি কে ব্যানার্জি একবার ‘রাজা–রাণীর’ গল্প শুনিয়ে মনোরঞ্জনকে তাতিয়ে ম্যাচে নামিয়ে দিয়েছিলেন। রক্ষণে মনোরঞ্জন থাকা মানে সতীর্থদের কাজ অর্ধেক হয়ে যেত। নিজের কীর্তির প্রসঙ্গে কথা বলতে একেবারেই না পসন্দ ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ডিফেন্ডারের, ‘নিজের সম্বন্ধে কথা বলতে ভাল লাগে না। শুধু এটুকু বলতে পারি, আমাদের সময়ে ইস্টবেঙ্গলের পরিবেশ আলাদা ছিল। অনেক খোলামেলা ছিল। খেলোয়াড়রা মন খুলে কথা বলত। মাঠে খেলত মনপ্রাণ দিয়ে। জান লড়িয়ে দিত।’
ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার হিসেবে কমবেশি সব ট্রফিই জিতেছেন। পাশাপাশি কোচ হিসেবে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম আই লিগ জিতিয়েছেন। ক্লাব বিপদে পড়লেই ডাক পড়েছে তঁার। এ দিন সন্ধায় বেলঘরিয়া ষ্টেশন লাগোয়া ফ্ল্যাটে নিজের ড্রয়িংরুমে বসে মনোরঞ্জন বলেছিলেন, ‘আমি ইস্টবেঙ্গলে ঢুকেছিলাম বিশাল চাপ নিয়ে। অশোকলাল ব্যানার্জির জায়গায় আমাকে নেওয়া হয়েছিল। অশোক লাল ব্যানার্জি ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের স্তম্ভ ছিলেন। ওর জায়গায় যখন আমাকে সই করানোর কথা বলা হল প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ওঁর ভক্ত ছিলাম আমি। মাথায় বিশাল চাপ নিয়ে খেলা শুরু করেছিলাম। প্রথম দিন থেকে কঁাধে অনেক দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামতাম।’

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *