চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:
মিনিয়াপোলিসে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ অব্যাহত আমেরিকায়। বিক্ষোভের আঁচ এতটাই তীব্র হয়েছে যে তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাসভবন হোয়াইট হাউসের সামনে আছড়ে পড়ে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, বিক্ষোভের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রায় ১ ঘন্টা হোয়াইট হাউসের আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে লুকিয়ে রাখা হয়।
শুক্রবার রাতে কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে খোদ প্রেসিডেন্টের দফতরের সামনে। বিক্ষোভকারীরা হোয়াইট হাউসের দিকে এগিয়ে এলে তাঁদের বাধা দেন সিক্রেট সার্ভিস ও আমেরিকার বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার কথা ভেবে সিক্রেট সার্ভিসের অফিসাররা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে নিয়ে যান। ট্রাম্পের সঙ্গে স্ত্রী মেলানিয়া ও পুত্র ব্যারন ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
টানা ৫ দিন ধরে হওয়া অশান্তি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমেরিকার ৪০টি শহরে প্রায় ৫০০০ সেনা নামানো হয়েছে। জারি করা হয়েছে কার্ফু। ওয়াশিংটন সহ ১৫টি শহরে আমেরিকার ন্যাশনাল গার্ড মেম্বারস সক্রিয় রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরও ২০০০ ন্যাশনাল গার্ডকে। সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার রাস্তায় এত সেনা এর আগে নামেনি বলেই অনেকের ধারণা। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিক্ষোভকারীদের কুকুর লেলিয়ে, গুলি চালিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে আমেরিকার মিনিয়াপোলিসে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে খুন হন ৪৬ বছরের এক কৃষাঙ্গ ব্যক্তি। খুনের সময় ডেরেক শভিন নামে ওই পুলিশকর্মী কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির ঘাড়ে ৯ মিনিটের বেশি সময় ধরে হাঁটু দিয়ে চাপ দিয়েছিলেন। এর ফলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। এই ঘটনা সামনে আসার পরই বিক্ষোভ শুরু হয় আমেরিকায়। লস অ্যাঞ্জেলস, শিকাগো, আটলান্টা-সহ হোয়াইট হাউসের সামনেও অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন বহু পুলিশ কর্মী। এই উত্তেজনার পিছনে অতি বামপন্থীদের দায়ী করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা অল্প কয়েকজন অপরাধীকে শহরে হামলা চালাতে দেব না। আমার প্রশাসন এই হিংসা থামাবেই। আমরা সব ঠান্ডা করে দেব।”
এই খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ‘থার্ড ডিগ্রি’ খুনের মামলা দায়ের করেছে মার্কিন প্রশাসন। নিহত কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছেন ট্রাম্প। এই ঘটনার নিন্দা করেছেন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেট প্রার্থী জো বিডেনও। প্রতিবাদে সরব হয়েছেন একাধিক হলিউড শিল্পী। সবারই একই প্রশ্ন, কেন বার বার আমেরিকায় অত্যাচারের স্বীকার হচ্ছেন কৃষ্ণাঙ্গরা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news