নীল রায়:
ব্যারাকপুরের লড়াই অর্জুন সিংহ বনাম দীনেশ ত্রিবেদীর। সোমবার ব্যারাকপুর লোকসভা আসনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে জোর লড়াই দিচ্ছেন ভাটপাড়ার অর্জুন। যা দেখে অনেকেই বলছেন এই লড়াই শক্ত মেরুদণ্ডের অর্জুন সিংহের বিরুদ্ধে সরীসৃপ দীনেশ ত্রিবেদীর। এমন মন্তব্যের অভ্যন্তরে অবশ্য একাধিক কারণ রয়েছে। ২০১২ সালে রেলমন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশ করে দীনেশের স্মরণীয় উক্তি এখনও সকলের স্মৃতিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে রেলমন্ত্রী দায়িত্বভার গ্রহণ করেন দীনেশ। বাজেট পেশ করে ঘুরপথে মমতার সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন, “রেল মন্ত্রক আইসিইউ-তে চলে গিয়েছে। আমি সঠিক বাজেট পেশ করে তাকে বের করে আনার চেষ্টা করছি।” কিলোমিটার পিছু দু’পয়সা করে ভাড়া বাড়িয়ে সেই সময় দলনেত্রীর রোষানলে পড়েন তিনি। যার জেরে রেল মন্ত্রক হাতছাড়া হয় তাঁর। সেই সময় জল্পনা শুরু হয় তৃণমূল ছাড়তে পারেন দীনেশ। কিন্তু “গুড বয়ে”র মতো ঘাড় নিচু করে তৃণমূলের টিকিটে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে ফের ব্যারাকপুর থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তারপরও একাধিক সময়ে বিতর্ক ছুঁয়ে গিয়েছে এই বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদকে। দলকে না জানিয়ে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক থেকে শুরু করে অমিত শাহর ছেলে জয় শাহর বিয়েতে মহার্ঘ উপহার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। সে সময়ও মমতার রোষানলে পড়েন তিনি। এইসব কিছু মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মহলের কাছে তিনি “সরীসৃপ” বলেই পরিচিত। যেহেতু বিদ্রোহ করেন, কিন্তু দল ছাড়া বা সাংসদ পদ ত্যাগ করার সাহস কখনওই দেখাতে পারেন না।
অন্যদিকে রয়েছে অর্জুন সিংহ। যিনি চোখে চোখ রেখে তৃণমূলের সঙ্গে ব্যারাকপুরে লড়াই করছেন। দলের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তৃণমূল ছেড়ে ভাটপাড়া বিধানসভার বিধায়ক পদ ত্যাগ করে গেরুয়া ঝান্ডা নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে তিনি। ২৩ মে দীনেশ কিংবা অর্জুন, শেষ হাসি হাসবেন একজনই। কিন্তু অর্জুনের এই অসম লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে ভুলছেন না রাজনৈতিক মহল। তাদের কথায়, বারবার বিদ্রোহ করেও মাথা ঝুঁকিয়ে মমতার কাছে থেকে গিয়েছেন দেশের শ্রেষ্ঠ সাংসদ। কিন্তু বিদ্রোহ করে বেরিয়ে অর্জুনের মত ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস দেখাতে পারেননি এই বিলেত ফেরত এমবিএ সংসদ সদস্য।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news