নীল রায়।
পিকে স্যারের পরামর্শ মত রাজ্যের আমজনতার কথা শোনার জন্য “দিদিকে বলো” নামে একটি হেল্পলাইন চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়েছেন যাবতীয় সুবিধা-অসুবিধার কথা এই হেল্প লাইনে জানালেই তুরন্ত ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। সংবাদমাধ্যম তথা রাজনৈতিক মহলের ভাবনা, অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর দলবল প্রশাসন মারফত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবেন। কিন্তু কোথায় কি? তৃণমূলের যে সমস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে গত লোকসভা ভোটে জনমত গিয়েছে। তাদের দিয়েই আবারও মানুষের অভিযোগের বিহিত করাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে লোকসভা ভোটে হারের কিছুদিন পরেই কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরীকে দায়িত্ব দিয়ে নবান্নে একটি “পাবলিক গ্রিইভান্স সেল” খুলেছেন তিনি।
সূত্রের খবর, ৫ জন তৃণমূল নেতাকে এই অভাব অভিযোগের কথা জানতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি অভাব অভিযোগের কথা জেনে তার বিচার করে প্রশাসন তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাবেন। এরা হলেন তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী দলের বর্ষিয়ান নেতা তথা মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ইন্দ্রনীল সেন ও কলকাতা পুর নিগমের এম আই সি রাম প্যারে রাম। পরামর্শ প্রশান্ত কিশোর দিলেও, তা কার্যকর করতে দিদি ভরসা তাঁর পুরোনো নেতারাই।
এই উদ্যোগের নতুনত্বের কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তারা। কারণ প্রতি রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার ক্লাব কালীঘাট মিলন সংঘ জনতার দরবার বসে সমস্যার সমাধান করতে। আবার রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক পুলিশ সুপার ও বিডিও দের কাছেও মুখ্যমন্ত্রীর নম্বর রয়েছে। এই সমস্ত পদাধিকারীদের নিজের নম্বর দিয়ে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদসত্ত্বেও আবারও তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের দিয়ে আরও সমস্যা সমাধানের পথ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের যে সমস্ত নিচুতলার নেতাকর্মীরা “দিদিকে বলো” শুনে প্রবল উৎসাহী হয়ে ছিলেন। এমন কমিটি গঠনের কথা শুনে তারাই এখন মনমরা। কারণ দল তথা স্থানীয় স্তরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এই সমস্ত নেতা মন্ত্রীদের কাছেই গিয়েছেন নিচুতলার অসহায় নেতা-কর্মীরা। কোনও নেতা ভবানীপুরের পার্টি অফিসে বসে অভিযোগ শোনা মাত্রই জোর খ্যাকানি দিয়ে তাড়িয়ে ছেড়েছেন। কারও কাছে আবার লালবাতি আর কড়া সরকারু নিরাপত্তা বেষ্টনীর জেরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এমন সমস্ত নেতাদের নিয়ে গড়া কমিটিতে কতটা কাজ হবে তা নিয়ে তাই সন্দিহান তৃণমূলের নিচুতলার নেতাকর্মীরা।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী হেল্পলাইন নম্বর চালু করতেই উত্তর থেকে দক্ষিণ রাজ্যের সর্বত্র তৃণমূল কর্মীরা ফোন করতে শুরু করেন। কিন্তু সর্বত্রই হাতে এসেছে হতাশা! দিদি তো দূরঅস্ত ! অভিযোগ জানানোর সুযোগটুকুও পাওয়া যায়নি। তবে তারা হার মানতে নারাজ! কেউ কেউ আবার “দিদিকে বলো” হেল্পলাইন নম্বরে মনের দুঃখ বলে হালকা হতে চাইছেন। তাতে কাজ হোক আর নাই হোক!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news