দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
:
কমলালেবুর শহরে একটি ষণ্ডা মার্কা হাতি ছেড়ে এলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়!
তাঁর হাতি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হৈহৈ রৈরৈ করে শুরু হয়েছে হাতি দর্শন। কেউ দেখছে হাতির লেজ তো কেউ দেখছে শুঁড়। কেউ দেখছে সামনের ডানদিকের পা তো কেউ দেখছে পিছনের বাঁদিকের। কেউ আবার আটকে আছে কুলো সমান কানে।
প্রণব মুখোপাধ্যায় পলিটিসিয়ানের স্তর পেরিয়ে বহুদিন আগেই স্টেটসম্যানের স্তরে উন্নীত হয়েছেন। তাঁর প্রজ্ঞা, সুচারু রাজনৈতিক বোধ এবং উপলব্ধির সুক্ষতা তাঁকে রাজনীতির চেনা পরিসর থেকে অনেকটা ওপরে তুলে দিয়েছে। যাঁরা তাঁর সঙ্ঘের সভায় যাওয়ার আগে গেল গেল রব তুলেছিলেন, তাঁকে কংগ্রেসী প্রণব বলে দেগে দিয়ে তাঁর ‘নাগপুরি অধঃপতনে’ কেঁদে আকুল হচ্ছিলেন, তাঁরা বেমালুম ভুলে গেছিলেন প্রণব রাইসিনা হিলের প্রাক্তন বাসিন্দা। তিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। বাস্তব এটাই, তিনি এখন আর কংগ্রেসের সীমানায় সীমায়িত নন। তিনি দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। সঙ্ঘের চোখেও তিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। আর তাঁর চোখেও সঙ্ঘ সেই দেশের একটি স্বীকৃত সংগঠন যে দেশের তিনি কয়েক মাস আগেও রাষ্ট্রপতি ছিলেন। কংগ্রেসের কাছে তাঁর আর কোনও দায়বদ্ধতা থাকার কথা নয়। দায়বদ্ধতা একমাত্র দেশের সংবিধানের কাছে। আর সে কথা কপিবুক প্রণবের চেয়ে ভালো আর কজনই বা জানে!
নাগপুরে, বৃহস্পতিবারের বিকেলে প্রণব বলার আগেই সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত বক্তৃতা মঞ্চের সুরটি বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের তারে বেঁধে দিয়ে ছিলেন। পরে প্রণবের লিখিত বক্তৃতাও সেই কথাই বলে। ভারতবর্ষ সম্পর্কে বলতে গেলে বিবিধের মাঝে মিলনের মাহাত্ম্যের কথা স্বাভাবিক ভাবেই আসে। এদিনও যেমন এসেছে ভাগবতের ভাষ্যে ও প্রণবের বক্তৃতায়।
প্রণবের বক্তৃতায় কেউ খুঁজে পাচ্ছেন বিজেপি ও আরএসএসের বিরোধিতা। প্রণব টলারেন্স শব্দটি ব্যবহার করেছেন। শব্দটি ব্যবহার করা মানেই বিজেপির বিরোধিতা করা, এমন তত্ত্ব খাড়া করছেন কেউ। কেউ বলছেন গাঁধীর নাম নিয়েছেন, নেহরুর ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া থেকে কোট করেছেন, সুতরাং কংগ্রেসের পক্ষেই ব্যাট করে এসেছেন বিপক্ষের মাঠে গিয়ে। এমনই আরও খণ্ডিত দর্শন ইতিউতি পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রতিবেদকের খণ্ডিত দর্শনটুকুও নিচে তুলে ধরলাম।
১) প্রণব মুখোপাধ্যায় বারবার ভারতবর্ষ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ইংরেজি বক্তৃতায় ইন্ডিয়া বলেও তৎক্ষণাৎ মনে করিয়েছেন ভারতবর্ষের কথা। দেশের এই নামটির মূর্ছনা যে গভীরতর তা সম্ভবত আলাদা করে বলার দরকার নেই।
২) প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বারংবার পাঁচহাজার বছরের ঐতিহ্যের কথা বলেছেন। দেশের পাঁচহাজার বছরের ঐতিহ্য মানে সনাতন সংস্কৃতিরই ঐতিহ্য একথাও বলা বাহুল্য।
৩) মৌর্য ও গুপ্ত সাম্রাজ্যের কথা সময় নিয়ে বলেছেন। সম্রাট অশোককেও কিছুটা সময় দিয়েছেন। তবে মুসলিম আগ্রাসনের উল্লেখ করেছেন মাত্র। তাদের শাসনকাল সম্পর্কে একটি শব্দও খরচ করেননি। দ্রুত ইংরেজ শাসনে চলে এসেছেন। বলেছেন, একটি মার্কেন্টাইল কোম্পানি… ইত্যাদি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news