নীল রায়।
বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের ডিএ বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার। বুধবার সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসকেই খোঁচা দিয়ে বসলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ মঞ্জুর করে প্রমাণ করে দিয়েছে যে আমাদের দাবি অযৌক্তিক ছিল না। এই সিদ্ধান্ত আমাদের নৈতিক জয়।” বুধবার বিধানসভায় সব্যসাচী দত্তর সঙ্গে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দেখা হয়। সেখানেই হাত ধরে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সব্যসাচী বলেন, “বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের ডিএ বাড়ানোয় জন্য ধন্যবাদ পার্থ দা। সত্যিই আমি খুশি হয়েছি।” জবাবে মৃদু হেসে উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আরে এই খুশি তো তোমারই জন্য।” এর পরে অবশ্য দুই নেতার মধ্যে আর বাক্যালাপ হয়নি।
ঘটনাচক্রে, এখন তৃণমূল রাজনীতিতে কোণঠাসা সব্যসাচী। দলের নির্দেশে বিধাননগরের মেয়র পদ ছেড়েছেন। তবে বিধাননগরের কাউন্সিলর ও রাজারহাট নিউটাউনের বিধায়ক পদ এখনও রয়েছে। এক পক্ষকাল আগে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মী ইউনিয়নের সভায় ডিএ-র দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন সব্যসাচী। তাঁর ডিএ-র দাবিতে আন্দোলনে সামিল হওয়াকে ভালো চোখে দেখেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এমনিতেই বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে বাড়িতে লুচি আলুর দম খাইয়ে দলের রোষানলে পড়েছিলেন সব্যসাচী। সে যাত্রায় দল তাঁকে রেয়াত করলেও, ডিএ-র দাবিতে বিদ্যুৎ দফতরে নিজের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোয় সব্যসাচী-তৃণমূল দ্বন্দ্ব তীব্র হয়। পরে দলের নির্দেশে অমান্য করে মুকুল রায়ের সঙ্গে বিধাননগর সুইমিং ক্লাবে বৈঠক করে দলের সঙ্গে বিচ্ছেদ প্রায় নিশ্চিত করেছেন সব্যসাচী।
তবে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের ডিএ পাওয়াকে কর্মী ইউনিয়নের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন এই তৃণমূল নেতা। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের অধীন তিনটি সংস্থা (বণ্টন, উৎপাদন ও সংবহন) -র অধীন ১৯,৬০০ কর্মীর ১০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news