নিজস্ব সংবাদদাতা:
চ্যানেল হিন্দুস্থানের পক্ষ থেকে ত্রিলোচন মাহাতর নৃশংস হত্যাকাণ্ড বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হয়েছিল বাংলার বিদ্বজ্জনদের।
তাদের মতামত জানতে চাইছিলাম আমরা, যারা দেশ দশের ভালো চেয়ে ছোট বড় বহু বিষয়ে মোমবাতি মিছিল করেন মাঝেমাঝেই, সাংবাদিক সম্মেলন করে গণতন্ত্রের তথা সাধারন নাগরিকের পাশে দাঁড়ান। কিন্তু আশ্চর্য, সেই তাঁরাই বিজেপি কর্মী খুন হওয়া নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করতে চাইলেন না। অনেকে আবার ফোনটুকুও ধরলেন না! আমরা পুরো বিষয়টা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে হতাশ বোধ করছি। কারণ লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিকের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্বাস থাকলেও দিনের শেষে তারা কিন্তু মানবতাবাদী, মানবীকতার দিশারী। তাহলে?
যাই হোক, আসল কথা হল, ত্রিলোচন যে একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী ছিলেন ছিলেন, তিনি যে এবারের পঞ্চায়েত ভোটে দলের হয়ে কাজ করেছিলেন তা কেবল দল বিজেপি বলছে না, বলছে তাঁর প্রতিবেশি গ্রামবাসীরাও। তাদের বক্তব্য, শাসক দলের ভাড়াটে গুণ্ডারা খুন করেছে ত্রিলোচনকে। স্বভাবতই ক্ষুদ্ধ গ্রামবাসীরা তরাতাজা যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে।
আমরা এ বিষয়ে চলচ্চিত্র ও নাট্য ব্যক্তিত্ব কৌশিক সেনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব অনেক দিন ধরে চলছে। নতুন করে কিছু বলার নেই। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি, সোমনাথদা (চট্টোপাধ্যায়) আরও অনেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে যা বলবার বলেছি। একটি সংবাদপত্রে বিস্তারিত লিখেওছি।’
নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা বিভাস চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গে এমন অনেক ঘটনাই ঘটছে। তবে এখন আমি দিল্লিতে আছি। টিভিতে জেনেছি খুনের কথা। সত্যি মিথ্যে জানি না। আমার পক্ষে এক্ষুনি কিছু বলা সম্ভব না।’
কবির সুমন মন্তব্য করেন, ‘কাগজ পড়ি না আমি। এদেশের খবর রাখি না। ফলে ওয়াকিবহাল নই। আমি টায়ার্ড! সো পেইনফুল সো পেইনফুল। আমাকে ক্ষমা করবেন!’
সমকালীন বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি মৃদুল দাশগুপ্ত বলেন, ‘যে কোনও হত্যাকাণ্ডই দুঃখজনক। জানি না, এগুলো কী ঘটছে! কেন ঘটছে বার বার। কেন থামছে না এমন মর্মান্তিক ঘটনা।’
মৃদুলের প্রশ্নটি প্রাসঙ্গীক। আমরা ভেবেছিলাম সকলেই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এমন ভাবেই গর্জে উঠবেন। কারণ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতবাদকে পছন্দ করার দাম দিতে হল ত্রিলোচনকে! বিজেপি করার ‘অপরাধে’ খুন হল সে! বাড়ি থেকে টেনে বের করে খুন করে তাঁর মৃতদেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হল গাছে! নির্মম খুনিরা টি-সার্টে লিখে দিল, ১৮ বছর বয়সে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ায় উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হল! এরপরেও ‘কাব্য’ করে কাটিয়ে দেব আমরা! এই স্বার্থপরতার দাম কিন্তু আমাদেরই একদিন চোকাতে হবে! আম-আদমি থেকে লেখক শিল্পী যে যাই হই, ঠোঁটে সেলোটেপ মেরে বসে থাকছি কী করে? রাজনৈতিক অংক কষব এরপরও? তাহলে কি ধরে নিতে হবে, বিবেক বলে কিছু হয় না। যারা সমাজের তথাকথিত ‘বিবেক’ তাদেরও ওই বস্তুটি নেই!
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news