Breaking News
Home / TRENDING / মুখ্যমন্ত্রীর আলগোছে করা সাংবাদিক বৈঠক আর বিরোধী দলের আলটপকা মন্তব্য, এরই মধ্যে একাই লড়ছে মানুষ

মুখ্যমন্ত্রীর আলগোছে করা সাংবাদিক বৈঠক আর বিরোধী দলের আলটপকা মন্তব্য, এরই মধ্যে একাই লড়ছে মানুষ

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :
নীল রায় :

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখনও রাজ্যের বিরোধী নেত্রী। সিঙ্গুর নন্দিগ্রাম কে কেন্দ্র করে বামফ্রন্টের মধ্যেকার বিরোধ তখন প্রায়শঃ বাইরে বেরিয়ে আসছে। রাজনীতির বাজার বেশ গরম। এমন একটা সময়ে একদিন বিকেলবেলা একজন সাংবাদিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন। এক মিনিটের কম সময় কথা বললেন। ফোন রাখার পর তাঁর মুখ শুক্ন, চোখ বিহ্বল।

কি হয়েছে?

সাংবাদিক জীবনে প্রথমবার মমতাকে ফোন করেছেন। তিনি বামফ্রন্টের খবর করেন। ওদিকের ধাত তিনি বোঝেন। মমতার ধরণ তাঁর অজানা।

কি হয়েছে? দিদি কি বললেন?

জানা গেল কোনও রাজনৈতিক দল সম্পর্কে প্রশ্ন করায় মমতা নাকি তাঁকে বলেছেন, ওটি তো মাফিয়াদের দল!
পরক্ষনেই অবশ্য ওই হাউসে যিনি মমতাকে কভার করেন তিনি ফোন করলেন এবং সঠিক উত্তরটিও পেলেন। সেই উত্তরে মাফিয়ার চিহ্নমাত্র নেই।
অনেক বড় বড় রাজনীতিকের মতোই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও কোন কথাটা নেওয়ার আর কোন কথাটা ফেলার তা বোঝার জন্য একরকম এক্সপার্টাইজ লাগে। জ্যোতিবাবুর কথার ক্ষেত্রেও এমনটা হত। তিনি কোন কথা কার উদ্দেশ্যে বললেন তা বোঝাবার জন্য বন্ধনী ব্যবহার করে সেখানে লিখে দিতে হত।

মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর দশ বছর কেটে গেছে তবু তিনি এখনও মুখ্যমন্ত্রীর মত কোনও আচরণ বা কথা বলার ধরণের ধার ধারেন নি। আরোপিত কিছু করা তার ধাতে নেই। এর ফলে সমস্যাও হয়। যেমন হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর গতকালের সাংবাদিক বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা আক্রান্তদের বাড়িতেই আইশোলেনশনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কোন পর্যায়ের রোগী সে বিষয়ে কিছু বিস্তারিত বলেন নি। বলেছেন, ‘বাড়িতেই আইসোলেসনে থাকবেন, স্বাস্থ্য দফতর আপনাদের মনিটর করবে।’

মুখ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে যেমন সমালোচিত হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ট্রোলিংয়ে নেটিজেনদের টার্গেটের মুখে নবান্ন। বিষয়টি ঠিক কি তা বোঝার চেষ্টা না করেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে কেউ আতঙ্কিত হওয়ার উপাদান পেয়েছেন কেউ আবার মস্করার মাত্রা বাড়াবার পথ খুঁজে পেয়েছেন। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ নয়, কোনও কোনও সাংবাদিকও মমতার কথায় শব্দের পর শব্দ উত্তর সম্পাদকীয় লিখতে বসে গেছেন। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের বহর দেখে অনেক রাজনীতিকও এই বিষয়ে তাঁদের মতামত জানিয়ে দিলেন।
যদিও গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর বহু আলোচিত সাংবাদিক বৈঠকের পরেই নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করে স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, কারও শরীরে সংক্রমণের মৃদু উপসর্গ থাকলে বা করোনা ভাইরাস পুরোপুরি দেখা না গেলে তাঁরা বাড়িতেই আইসোলেশনে থাকুন। সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতর আরও জানিয়েছে, এই রোগীরা সরকারি নজরদারিতে থাকবেন। স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকারি অফিসাররা সময়ান্তরে তাঁদের খোঁজ নেবেন। তাঁদের একটা আন্ডারটেকিংয়েও সই করতে হবে। তা ছাড়া সরকারের আরোগ্য সেতু অ্যাপ ডাউনলোড করে তা সব সময় অ্যাকটিভ রাখতে হবে। ডাক্তারি পরিভাষায় এই পর্যায়ের নাম প্রাইমারি অথবা সেকেন্ডারি পর্যায় কিংবা প্রি সিম্পটমেটিক অবস্থা।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য সচিব বিবেক কুমার তাঁর বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের প্রাক উপসর্গ দেখা দেওয়া মানুষকে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগে থাকতে হবে।
এরপর কেন্দ্রীয় সরকারও একই নির্দেশিকা জারি করে। যেখানে প্রি সিম্পটমেটিক রোগীকে বাড়িতেই থাকতে বলা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক ভাবে বুঝতে না পেরে বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অননুকরণীয় ঢঙে বিষয়টি নিজের মত করে ‘সহজ’ ভাবে বোঝাতে গিয়ে, জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভুল বার্তা ছড়িয়েছে এবং অকারণ আতঙ্ক সঞ্চারিত হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার লিখিয়েরা কতটা দায়িত্ব পালন করে লিখবেন, দায়িত্ব পালনের কোনও দায় তাঁদের আছে কিনা, এসব প্রশ্ন থাকবে। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোলিংয়ের সুরে সুর মিলিয়ে রাজনৈতিক নেতারা যদি ঘোলাজলে মাছ ধরে নেমে পড়েন তাহলে তা আরও বড় চিত্তির।

রোগী বাড়িতে থাকলে সীমিত চিকিৎসা পরিষেবা ও অপ্রতুল চিকিৎসক দিয়ে তাদের মনিটর করা যাবে কিনা, এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র এই প্রশ্ন তুলেওছেন।
এই ব্যবস্থা কার্যকরী হবে কি হবে না সে ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করার যেমন কোনও মানে হয় না তেমনই মানে হয় না অাতঙ্ক ছড়াবার বা আশঙ্কিত হবার। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী যেমন বলেছেন, এটা সর্বনাশের সিদ্ধান্ত। গোটা দেশে বিশেষজ্ঞরা যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন, সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে জনমানসে আরও বেশি করে অনিশ্চয়তা ঢোকাবার কি অর্থ ,তা যাঁরা এই কাজটি শুরু থেকেই মন দিয়ে করছেন, তাঁরাই বলতে পারবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর আলগোছে করা সাংবাদিক বৈঠক এবং বিরোধী নেতার আলটপকা মন্তব্যের মধ্যেই সাধারণ মানুষকে লড়ে বেঁচে থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তো আগেই বলেছেন, করোনার বিরুদ্ধে আসল লড়াই লড়ছে সাধারণ মানুষ।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *