ঈষানিকা ভোরাই :
সারা দেশে মাওবাদী সমস্যায় জর্জরিত জেলাগুলির জন্যে বাড়তি বরাদ্দ থাকে কেন্দ্রের। পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জেলার জন্যেও এতদিন ছিল। তবে আর নেই। ২৫ কোটির বরাদ্দ প্রায় তলানিতে এসে মাত্র এক কোটিতে দাঁড়িয়েছে।কিন্তু কেন? তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছে মুখ্যমন্ত্রীর বাগাড়ম্বরই এই বিড়ম্বনার কারণ।
বিষয়টি গোড়া থেকে এই রকম : কয়েকদিন আগে কেন্দ্রের একটি চিঠি এসে পৌঁছায় নবান্নতে। সেই চিঠি অনুযায়ী এই রাজ্যের পাঁচ জেলা- বীরভূম বাঁকুড়া পুরুলিয়া পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ এক ধাক্কায় ২৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে। চিঠি পাওয়া মাত্রই কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে যাওয়ার রাস্তায় নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষোভ জানিয়ে চিঠিও পাঠান হচ্ছে কেন্দ্রেীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে। একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আমলাদের জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রের ওই ১ কোটি টাকা কিছুতেই নেওয়া হবে না। আর এই জেলাগুলোর উন্নয়নের কাজ রাজ্য সরকার নিজেদের বাজেট থেকেই করবে। ছুঁচো মেরে হাতে গন্ধ করার কোনও দরকার নেই!
২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার আগে প্রায় প্রতিদিন খবরের শিরোনামে থাকত মাওবাদী অধ্যুষিত এই জেলাগুলি। প্রতিদিন গুলি, খুন, বোমা বিস্ফোরণ, রাস্তা কাটা, অপহরণ ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা থেকে শুরু করে এই সব এলাকার উন্নয়নের জন্য আলাদা করে অর্থ বরাদ্দ করে কেন্দ্র। মোতায়েন করা হয় আধাসামরিক বাহিনীও। কেন্দ্রের বরাদ্দ এই টাকার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কোটি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আস্তে আস্তে কমতে থাকে এইসব ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রীও গত তিন-চার বছর ধরে প্রায় প্রতিটি জনসভায় (বিশেষ করে জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে) দাবি করে আসছেন যে “জঙ্গলমহল হাসছে” । মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, তাঁর সরকারের গৃহীত নীতির কারণেই জঙ্গলমহল আজ শান্ত; উন্নয়নের ঢেউ লেগেছে সেখানে। মুখ্যমন্ত্রী এমন দাবিও করেন, “ওখানে এখন আর কোনো মাওবাদী নেই”। প্রশাসনের একাংশের অভিমত, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকেই হাতিয়ার করেছে কেন্দ্র। ফলে এই পাঁচ জেলার জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ জেলা পিছু ২৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে জেলা পিছু ১ কোটি টাকা করা হয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটের আগে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে জঙ্গলমহলের এই পাঁচ জেলার উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হতে পারে বলেই মনে করছেন নবান্নের শীর্ষকর্তারা। তবে তাঁরা এটাও জানিয়েছেন যে এইসব জেলার উন্নয়ন থেমে থাকবে না। অবশ্য ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে চিঠিও দিচ্ছে রাজ্য। এদিকে রাজ্যের বক্তব্যকে কটাক্ষ করে অধুনা বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বক্তব্য “মুখ্যমন্ত্রীই তো বলেছেন এ রাজ্যে মাওবাদী নেই”। এদিকে বামপন্থীরাও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হলেও তাদেরও কটাক্ষ “নিজেরই কথার জালে জড়িয়ে পড়ছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী”।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news