সূর্য সরকার:
সিভিক ভলিন্টিয়ার নিয়ে নতুন আইন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিধানসভার চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনেই আসতে চলেছে সিভিক ভলিন্টিয়ার বিল, ২০১৯। সূত্রের খবর, সিভিক পুলিশ বা সিভিক ভলিন্টিয়ারদের চাকরির বিষয় সুনিশ্চিত করা, আর্থিক নিরাপত্তা সহ নানা বিষয় থাকতে চলেছে এই বিলে। এই বিল বিধানসভায় পাশ হলে তারপর তা রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে। রাজ্যপাল সিলমোহর দিলেই বিল রূপান্তরিত হবে আইনে। যা হলে বর্তমানে রাজ্যের দেড় লক্ষেরও বেশি সিভিক ভলান্টিয়াররা উপকৃত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বেকার যুবক-যুবতীদের কাজের সুযোগ করে দিতে তড়িঘড়ি সিভিক ভলিন্টিয়ার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দফায় জঙ্গলমহলের প্রায় ১০০০০ ছেলে মেয়েকে চাকরি দেওয়া হলেও পরে রাজ্যজুড়েই নিয়োগ হয় সিভিক ভলিন্টিয়ার। পুলিশের দৈনন্দিন কাজে বিশেষ করে ট্রাফিকের কাজ সামলাতেই এদের কাজে লাগানো হয়। প্রথমে মাসে ৫৫০০ টাকা করে দেওয়া হলেও ১ অক্টোবর, ২০১৮ থেকে ৮০০০ টাকা কিংবা তার বেশি ভাতা পেতে শুরু করেন তারা। এর পাশাপাশি, সরকার নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দিয়েছিল, অন্য অস্থায়ী কাজের মতো সিভিক ভলিন্টিয়ারদের ক্ষেত্রেও ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি থাকবে, প্রতি বছর ৩% করে ডিএ দেওয়া হবে এবং ৬০ বছর কর্মজীবন শেষে ৩ লাখ টাকা গ্রাচুয়িটি দেওয়া হবে। যদিও, এই সবটাই এতদিন ছিল সরকারের সিদ্ধান্ত, এক্সসিকিউটিভ অর্ডার। আগামীদিনে সরকারের পরিবর্তন হলে এই অর্ডারেরও বদল হতে পারে কিংবা চাইলে পুরনো সরকারের সিদ্ধান্ত খারিজ করে ‘সিভিক ভলিন্টিয়ার’ তুলেও দিতে পারে নতুন সরকার। ইত্যাদি বিষয় ভাবনায় রেখেই এই নতুন আইন আনতে চলেছে মমতা সরকার।
কী থাকতে পারে এই বিলে? সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা না হলেও প্রশাসন সূত্রে খবর, নতুন বিলে সিভিক ভলিন্টিয়ারদের কাজ এবং আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় সুনিশ্চিত করতে পারে সরকার। তবে, কীভাবে এই সংস্থান সরকার করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন, পুলিশের চাকরির ক্ষেত্রে সিভিক ভলিন্টিয়ারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেই মতো যাঁরা ‘ভালো’ কাজ করছেন, তাঁদের জন্য পুলিশের হোমগার্ড বা কনস্টেবলের কাজে ঢোকার সুযোগ থাকতে পারে। তবে, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড রয়েছে, ফলে সিভিক ভলিন্টিয়াররা সেই বোর্ডের মাধ্যমে তাঁরা পুলিশে কাজ পাবেন নাকি অন্য কোনও মাধ্যমে এদের কর্মসংস্থান হবে, সেটাই এখন দেখার।
প্রসঙ্গত, মাঝেমধ্যেই সিভিক ভলিন্টিয়ারদের কাজকর্ম নিয়ে অভিযোগ ওঠে, তাদের কী কী কাজ করতে হবে তার নির্দেশিকাও রয়েছে। কিন্তু তারপরেও সঠিক প্রশিক্ষণের অভাব থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই না না অভিযোগ ওঠে এদের বিরুদ্ধে। সেক্ষেত্রে, সিভিক ভলিন্টিয়ারদের কাজ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব থাকতে পারে নতুন বিলে।
এই বিল বিধানসভায় পাশ হয়ে গেলে তা বর্তমান রাজ্য সরকারের বড়সড় পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে। লোকসভা ভোটের আগে এই সিভিক ভলিন্টিয়ারদের একটা অংশ বিক্ষোভ শুরু করেছিল সরকারের বিরুদ্ধে, ছিল নানা দাবিদাওয়াও| যাতে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ইন্ধন দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল শাসক পক্ষ। পরে যাদের একটি সংগঠনের বেশ কয়েকজন বিজেপিতে যোগদানও করে| ফলে, আগামী ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে প্রায় দেড় লক্ষের বেশি এই সিভিক ভলিন্টিয়ারদের বিষয়ে সরকার যদি ‘স্থায়ী’ কোনও আইন তৈরী করে, তবে তা রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news