নীল রায়।
“দিদিকে বলো” কর্মসূচিতে অংশ নিয়েও, আম জনতার অভিযোগের কথা শুনলেন না বারাসাতের তারকা বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। রবিবার বারাসত পুরসভা এলাকায় জনতার অভিযোগে কর্ণপাত না করেই এলাকা ছাড়েন তিনি। অভাব অভিযোগের কথা শুনে নায়কের জবাব, “এখন এটার সময় নয়। ভোটের আগে আসলে এসব শুনব।” ২০১১-১৬ সালের মধ্যে বারাসতে বিধায়ক হিসেবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এই অভিযোগে স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করার দাবি গত বিধানসভা ভোটের আগেই উঠেছিল। “দিদিকে বলো” কর্মসূচি নিয়ে যখন দল সাধারণ মানুষের কাছে যেতে চাইছে! তখন বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর এমন ব্যবহারে বেজায় ক্ষুব্ধ বারাসাত এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব।
“দিদিকে বলো” কর্মসূচিতে শনিবার দুপুরে চিরঞ্জিতের ভূমিকায় যে ক্ষতি হয়েছে, তার “ড্যামেজ কন্ট্রোলে” রবিবারই পথে নামতে হল সংগঠনের নেতাকর্মীদের। শনিবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বারাসত পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ড ও সংলগ্ন অঞ্চলে “দিদিকে বলো” কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বারাসত শহর তৃণমূল কংগ্রেস। তাতে যোগ দিয়েছিলেন বারাসতের বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। প্রথমে যান আপনপল্লিতে। রুপোলী পর্দার নায়ককে দেখতে পাড়ার মহিলা থেকে বৃদ্ধ সবাই ভিড় করেন। একইসঙ্গে বর্ষাকালে এলাকায় জল জমার ফলে তাঁদের দুর্ভোগের কথাও তাঁকে জানান। সেখানে কোনওমতে ভিড় এড়িয়ে চলে যান তিনি। স্থানীয়দের দাবি শোনেন বারাসতের চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায়। এরপর বিধায়ক যান রামকৃষ্ণপল্লিতে। সেখানে দলীয় কর্মী পেশায় রাজমিস্ত্রি গোকুল সরকারের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন৷
ওই বাড়ি থেকে বের হতেই বিধায়কের কাছে আসেন স্থানীয়রা। বিধায়কের উদ্দেশ্যে বলেন, “একবার চলুন। দেখুন কীভাবে জল জমে আছে। কত বছর ধরে কাউন্সিলরকে ড্রেনগুলি ঠিক করার কথা বলছি, কোনও কাজই হচ্ছে না। আপনি একবার দেখুন।” কিন্তু স্থানীয়দের এহেন আর্জি কোনওভাবেই শুনতে রাজি হননি বিধায়ক। টোটোয় চেপে তিনি বলেন, “এখন সময় নয়, অনেক কর্মসূচি আছে।” অভিনেতা বিধায়কের স্থানীয় জনতার প্রতি এমন ব্যবহারে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তৃণমূল নেতারা। তাই রবিবার দিনভর ওই সমস্ত এলাকায় আবারও নেতারা গিয়ে স্থানীয় জনতার অভাব অভিযোগের কথা জানতে চাইবেন বলেই খবর।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news