চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
কোভিড-১৯ (Covid-19) মোকাবিলায় সরকারি ব্যর্থতা চাপা দিতেই ভারত-চিন সীমান্তে যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছে রাষ্ট্রপতি শিং জিনপিংয়ের সরকার। সোমবার রাতে লাদাখের গালওয়ান ঘাঁটিতে দুপক্ষের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটার পরেই এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে চিন জুড়ে। কূটনৈতিক মহলের মতে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে শিং জিনপিং সরকারের (Xi Jinping Govt.) ব্যর্থতা চিনে এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। ফলে ঘরোয়া চাপ ভালমতোই বুঝতে পারছে শিং জিনপিং প্রশাসন। সেই ব্যর্থতা থেকে দেশবাসীর নজর ঘোরাতেই আচমকা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দিয়েছে চিনা সরকার। সোমবার রাতে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনার পর দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য মঙ্গলবার দিনভোর ভারত বিরোধী গরম গরম কথা বলছেন চিনা বিদেশমন্ত্রী।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) গোয়েন্দারা গতকালই চিনের বেতার তরঙ্গে আড়ি পেতে জানিয়েছিল, সংঘাতের ঘটনায় কমপক্ষে ৪৩ জন চিন পিপলস লিবারেশন আর্মির (China Peoples Liberation Army) সৈনিক মারা গিয়েছে। সেই সংখ্যাটা আদতে ৪৩-এর অনেক বেশিও হতে পারে। আর এত বৃহৎ পরিমানে চিনা সৈনিক মারা যাওয়ার ঘটনা তা প্রকাশ হয়ে গেলে মুখ পুড়তে পারে রাষ্ট্রপতি শিং জিনপিংয়ের। তাতে ঘরোয়া পরিবেশে আরও চাপ বাড়বে চিন সরকারের ওপরে। এমনিতেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যু নিয়ে চিনের জনতার মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সরকার তাঁর সর্বশক্তি দিয়ে চাপা দিয়ে রেখেছে যাবতীয় তথ্য। পাশাপাশি, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দেশীয় জনতার নজর ভূয়ো জাতীয়তাবাদের দিকে ঘোরাতে চাইছে।
কারণ, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে মুখে সাফল্যের দাবি করলেও, পরিস্থিতি যে যথেষ্ট খারাপ তা ভালোই জানে চিন প্রশাসন। ফের দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেজিং বিমানবন্দর সিল করে দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ১২০০ অভ্যন্তরীণ বিমান। সেইসঙ্গে বুধবার থেকে বেজিংয়ের সমস্ত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ফের অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বেজিং মিউনিসিপ্যাল প্রশাসন। তাই বাঁচাতে ভারত বিরোধী অবস্থানই শ্রেয় বলে মনে করছে শিং জিনপিংয়ের সরকার।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news