চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
চিনের বিরুদ্ধে এবার জমি দখলের অভিযোগ তুলল কমিউনিস্ট পার্টি পরিচালিত নেপাল সরকার। সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি সরকারের (K P Sharma Oli Govt.) কৃষি মন্ত্রকের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, তিব্বতের দিক থেকে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু করেছে চিন (China)। আর সেই কাজ করতে গিয়েই ১১টি জায়গায় সীমান্ত লঙ্ঘন করে নেপালের জমি দখল করে নিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিন। এর মধ্যে ১০টি জায়গায় ৩৩ হেক্টর জমি ইতিমধ্যেই নেপালের হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে বল ওই রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। নেপালের হুমলা জেলায় ১০ হেক্টর এবং রাসুওয়া জেলায় ৬ হেক্টর জমি ইতিমধ্যেই দখল করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছে চিন।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় ভূখণ্ড দখলের অভিযোগে এখন বিশ্ব মঞ্চে সমালোচিত হচ্ছে চিন। তার মধ্যে আরও এক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জমি দখল করার অভিযোগ উঠল চিনা সররকারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দিল্লির আপত্তি উড়িয়ে কালাপানি, লিপুলেখ গিরিপথ ও লিম্পিয়াধুরা এলাকায় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ডকে জুড়ে তৈরি নয়া মানচিত্রে অনুমোদন দিয়েছিল নেপাল পার্লামেন্ট। ফলে ভারতের পক্ষে নেপালের এই অবস্থান অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিনা সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় জওয়ানদের সংঘর্ষের ঘটনার পর নেপালের বিরুদ্ধে এখনই কোনও ব্যবস্থা নিতে চাইছে না ভারত।
তাছাড়া, নেপালের মতো ছোট প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে শত্রু বানাতে নারাজ দিল্লি। ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) জানিয়েছেন, নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রুটি ও বেটির সম্পর্কের মতো। তাই ভারত-নেপালের পদক্ষেপে আপাতত কোনও ব্যবস্থা না নিলেও, চিনের আগ্রাসন নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে নেপালের কেপি শর্মা ওলির সরকার। জমি দখলের পাশাপাশি তিব্বতের নদীর গতিপথ পরিবর্তনের অভিযোগও উঠেছে চিনের বিরুদ্ধে। খারানে খোলা এবং ভোটে কোশি নদীর গতিপথ আলাদা হয়েছে। নেপাল সরকার আশঙ্কা করছে, হিমালয়ের বরফগলা জলে পুষ্ট ওই দুই নদীর গতিপথ ভবিষ্যতে তিব্বতের দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করবে চিনের ইঞ্জিনিয়াররা। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, “ওই এলাকাগুলির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতে চিনা সশস্ত্র পুলিশের চৌকি বসানোর সম্ভাবনা রয়েছে।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news