অমিত রায় :
দীর্ঘ ১০ বছর কারাবাসের পর মুক্তি পেয়েছিলেন জনসাধারণের কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাতো (Chatradhar Mahato)। অতি লাল ঝাণ্ডার আন্দোলন ছেড়ে যোগ দিয়েছেন তৃনমূলে (TMC)। পেয়েছেন দলের রাজ্যে কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ। তৃণমূলের একটি গোষ্ঠীকে ক্ষুণ্ণ করে ঝাড়গ্রাম জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত তৃণমূলের হয়ে জমি চাষ করতে নেমেছেন তিনি। যা নিয়ে আদি তৃণমূলীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। তা সত্ত্বেও শীর্ষ নেতৃত্বের আশীর্বাদে জঙ্গলমহলে দাপট দেখাচ্ছেন ছত্রধর। লোকসভা ভোটে তৃণমূলের ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছু ফিরিয়ে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। আর তাঁর এমন গতিবিধির মধ্যেই চুপিসাড়ে জঙ্গলমহলে বেড়েছে মাওবাদী সংগঠনের আনাগোনা। সিপিআই (মাওবাদী) (CPI-Maoists) সংগঠনের পলিটব্যুরো সদস্য এবং শীর্ষ নেতা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষানজির (Kishanji) মৃত্যুর পর দীর্ঘ ন’বছর মাওবাদীদের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি রাজ্যের মাটিতে। কিন্তু জঙ্গলমহলে ছত্রধরের ফিরে আসার পরেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা খবর পেয়েছেন, ফের পশ্চিমবঙ্গের সংগঠনে শান দেওয়ার চেষ্টা করছে লাল গেরিলারা।
এ বছর স্বাধীনতা দিবসের আগে গ্রামে গ্রামে কালো পতাকা তোলার ফতোয়াও দিয়েছিল মাওবাদীরা। গত ১৫ অগস্ট সকালে বেলপাহাড়ির বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতা দিবসকে ‘কালা দিবস’ পালন করার ডাক দিয়ে মাওবাদী পোস্টারও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু গ্রামে ঢুকে গুলি চালানোর মতো বেপরোয়া হয়ে উঠবে মাওবাদী স্কোয়াড, এমনটা ভাবতে পারেননি জঙ্গলমহলের বাসিন্দা থেকে শুরু করে জেলা পুলিশের আধিকারিকরা। বৃহস্পতিবার রাতে ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া পচাপানি গ্রামে বিদ্যুৎ দাসের ঘটনার থেকে আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রসঙ্গত, যতদিন ঝাড়খণ্ড বিজেপি (BJP) শাসিত রঘুবর দাসের সরকার ছিল ততদিন এই ধরনের মাওবাদীদের উৎপাত লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু, কংগ্রেসের সঙ্গে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার হেমন্ত সোরেন সরকার আসার পর থেকেই এই কার্যকলাপ শুরু হয়। তা আরো গতি পেয়েছে ছত্রধর মাহাতোর জঙ্গলমহলে ফিরে আসার পর। যেহেতু ছত্রধর মাহাতো তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তাই তাঁর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশ কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। বাম জমানার শেষ দিকে যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতেই মাওবাদীরা যেভাবে জঙ্গলমহলের জেলাগুলিকে বধ্যভুমিতে পরিণত করেছিল সেই অভিজ্ঞতা থেকে এ বিষয়ে নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তাই এক দশকেরও পুরনো মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ (NIA)। জঙ্গলমহলের নেতা ছত্রধর মাহাতোর বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় এজেন্সি এনআইএ তাঁকে জেরা করেছে। সেই তদন্ত খারিজের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন একদা পুলিশি সন্ত্রাস বিরোধী জনসাধারণের কমিটির নেতা ছত্রধর। এখন তিনিই জঙ্গলমহলে তৃণমূলের অন্যতম ভরসা। সেই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এনআইএ-এর তদন্ত খারিজ করেননি। আবার আদালত ছত্রধরের আবেদনও খারিজ করেনি। সেপ্টেম্বরে ফের একটি দিন ধার্য করেছে আদালত।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news