Breaking News
Home / TRENDING / মা’র অসুখ, টাকার দরকারে করোনার মৃতদেহ দাহ করল দ্বাদশ শ্রেনীর কিশোর

মা’র অসুখ, টাকার দরকারে করোনার মৃতদেহ দাহ করল দ্বাদশ শ্রেনীর কিশোর

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো:

অভাব অর্থের, অভাব খাদ্যের। বেঁচে থাকতে গেলে তো সবার আগে খাদ্য দরকার। কিন্তু অর্থ না থাকলে খাদ্য তো পাওয়া যাবে না। তাই পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাদ্য তুলে দিতে নিজের জীবনকে বাজি রাখলেন দ্বাদশ শ্রেণীর এক যুবক।

করোনা সংক্রমণের জেরে যখন গোটা বিশ্ব কাঁপছে। প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। সংক্রমণের ভয়ে প্রিয়জনকে শেষ দেখা টুকুও দেখতে পাচ্ছেন না অনেকে। ঠিক সেই সময় মায়ের চিকিৎসা, ভাই-বোনদের পড়াশুনার খরচ ও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য করোনা মৃতদেহ সৎকারের কাজ নিলেন চাঁদ মহম্মদ। উত্তর-পূর্ব দিল্লির বাসিন্দা চাঁদের বয়স মাত্র ২০ বছর। এখনও স্কুলে পড়াশুনা করছেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন মেডিসিন নিয়ে পড়াশুনা করবে। কিন্তু দারিদ্র্যের করালগ্রাসে তা সম্ভব হয়নি, পরিবর্তে করোনা মৃতদেহ দেখাশুনার জন্য সুইপারের কাজ নিলেন দিল্লির লোকনায়ক  জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে।

বাবা-মা, তিন বোন ও দুই ভাইয়ের সংসার চাঁদের। পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে কাজের জন্য স্বল্প সুদে টাকা ধার নিতে চেয়েছিলাম চাঁদ। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। চাঁদের পরিবারের এই অবস্থার কথা জেনে প্রতিবেশীরা রেশন সামগ্রী দিয়েছে। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। পরেরদিন রেশন বাঁচানোর কোনও কোনও দিন একবেলা খেয়েও থাকতে হয়েছে চাঁদের পরিবারকে। চাঁদের কথায়, “মায়ের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে। সময়মতো ওষুধ অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি ভাই-বোনদের স্কুলের ফি-ও দিতে হচ্ছে। যেটুকু খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যায় তা দিয়ে একবেলা খেয়ে থাকতে হয়। এদিকে লকডাউনের জন্য কোনও কাজও পাওয়া যায়নি। অনেক চেষ্টা করে কিছু না পেয়ে আমি  বাধ্য হয়ে করোনা মৃতদেহের সৎকারের কাজ নিয়েছি। আমরা ভাইরাস থেকে বাঁচতে পারি। কিন্তু খিদের জ্বালায় বাঁচতে পারব না।” এত কষ্টের মধ্যেও ভগবানের প্রতি বিশ্বাস হারাননি চাঁদ মহম্মদ। কাজে বেরোনোর আগে প্রতিদিন নিয়ম করে নামাজ পড়েন। তাঁর আশ্বাস, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস আছে। তিনি আমাকে রক্ষা করবেন। তিনিই আমাকে পথ দেখিয়ে দেবেন। 

বর্তমানে পৃথিবীর সবথেকে বিপদের কাজ করে মাসে ১৭ হাজার টাকা পান চাঁদ। তবে এই বিপদের কাজ করা স্বত্ত্বেও কোনও বীমা নেই তাঁদের। যা নিয়ে আক্ষেপের সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। চাঁদকে প্রতিদিন ২-৩টি কোভিড মৃতদেহ নাড়াচাড়া করতে হয়। হাসপাতালে এই বিভাগে আরও বেশ কয়েকজন কাজ করেন। প্রত্যেকের ডিউটি ভাগ করা রয়েছে। নিজের কাজ প্রসঙ্গে চাঁদ বলেন, কোভিদ মৃতদেহগুলিকে আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্মশানে নিয়ে যেতে হয়। সেখানে গিয়ে স্ট্রেচারে করে সৎকারের জন্য নামাতে হয়। তারপর সৎকারের কাজ সম্পন্ন করে আবার হাসপাতালে ফিরে আসতে হয়। পুরো কাজটি করা হয় পিপিই পড়ে। পিপিই পড়ে কাজ করতে অনেক অসুবিধা হয়। দম বন্ধ হয়ে আসে। ঘামে পুরো শরীর ভিজে যায়।

মঙ্গলবারের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন চাঁদ। তিনি বলেন, “আমি একজন ডাক্তারের কাছ থেকে শুনলাম একটি কোভিড মৃতদেহ এক মাসের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে। মৃতদেহটি কেউ নিয়ে যায়নি। মৃতদেহটি ভালো করে প্যাকেটে মোড়াও হয়নি। আমি যখন শেষকৃত্যের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে মৃতদেহটি ওঠাই, তখন মৃতদেহ থেকে তরল বস্তু আমার গায়ে এসে পড়ে।” যেহেতু এই কাজ করছে তাই পরিবারের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেছে চাঁদ। বাড়ি গিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন তিনি। 

এভাবেই অভাবের জন্য নিজের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলেও সংগ্রাম করে চলেছে চাঁদ। প্রতিদিন মায়ের হাতের বানানো খাবার নিয়ে হাসতে হাসতে কাজে যান চাঁদ। অভাব তাঁকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে কিন্তু তাঁর খুশিকে কাড়তে পারেনি। স্বপ্ন দেখেছিলেন একদিন ডাক্তার হবে। মেডিসিন নিয়ে পড়াশুনা করবে। কিন্তু অভাবের তাড়নায় সেই স্বপ্ন যে অধরাই থেকে যাবে তা ভাবতেই পারেননি বছর কুড়ির যুবক চাঁদ মহম্মদ। 

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *