Breaking News
Home / TRENDING / ট্রেন বাস পোড়ালে ক্ষতি মোদী মমতার না বরং দেশের: ত্বহা সিদ্দিকি

ট্রেন বাস পোড়ালে ক্ষতি মোদী মমতার না বরং দেশের: ত্বহা সিদ্দিকি

নিজস্ব সংবাদদাতা:

প্রতিবাদ হোক, কিন্তু শান্তিপূর্ণ। এমন কিছু করবেন না যাতে দেশের ক্ষতি হয়, মানুষের ক্ষতি হয়, বার্তা দিলেন ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি।  প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে অসম, ত্রিপুরার পর পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়েছে বিচ্ছিন্ন অশান্তি। উলুবেড়িয়া থেকে মুর্শিদাবাদ, গতকাল থেকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ দেখাচ্ছে উত্তেজিত জনতা। ভাঙচুর হয়েছে স্টেশনে, হামলা হয়েছে ট্রেনে। রাস্তা অবরোধ করে CAB ও NRC-র বিরোধিতায় সামিল হয়েছে অসংখ্য মানুষ। গোটা রাজ্যের ট্রেন ও বাস পরিষেবাতে যার প্রভাব পড়েছে। এমনকী জনতার আক্রোশে আক্রান্ত হয়েছে সাধারণ ট্রেনযাত্রীও। সব মিলিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি গোটা বাংলাজুড়ে। এমত অবস্থায়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত ভারতবাসীর উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রিত প্রতিবাদের বার্তা দিলেন ত্বহা সিদ্দিকি।

একটি ভিডিও বার্তায় ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা বলেন, ‘NRC আর CAB-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হবে, কিন্তু অন্যের ক্ষতি করে নয়।’ ত্বহার কথায়, ‘ট্রেন-বাস পোড়ালে মোদী-অমিত শাহ-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে দেশের, এটা মাথায় রাখতে হবে।’ এইসঙ্গে এই ভিডিওতে বিজেপি সরকারের চরম সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘এই সরকার আসার পর থেকে চূড়ান্ত অস্থিরতায় ভূগছে শুধু মুসলমান বা শুধু হিন্দু না, বরং সব ভারতবাসী। সাধারণ মানষ যে খেঁটে খাবে শান্তিতে, সেটুকুও সম্ভব হচ্ছে না। আজ ডিমনিটাইজেশন, কাল রামমন্দির-বাবরি মসজিদ, পরশু জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ বিলোপ, তারপর CAB আর NRC। একটা আতঙ্কের পরিবেশ সব সময়।’ ত্বহা বলেন, ‘এই আতঙ্ক শুধু মুসলমানদের না, শুধু হিন্দুদের না, সকলের। কারণ ভারতের সংবিধানকে ধ্বংস করতে চাইছে মোদী-শাহরা।’ তাঁর কথায়, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩৭০ তুলে দিয়ে বলেছিলেন—এক দেশ, এক আইন। অথচ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের সময় মুসলমান ছাড়া সকলের শরণার্থী হওয়ার অধিকার রইল!’ উত্তেজিত পিরজাদা বলেন, এরা আমাদের নাগরিকত্ব দেবার কে! ভারতের মুসলমানরা ভারতের নাগরিক, ভারতের হিন্দুরা ভারতীয় নাগরিক। আমাদের বুঝতে হবে, এই বিল চমক, ভাওতা। বুঝতে হবে এরা হিন্দু ভাইদেরও ভালো চায় না, মুসলমান ভাইদেরও ভালো চায় না। শুধু ইচ্ছে মতো জুলুম করতে পারে।’ ত্বহা বলেন, ‘বিজেপির আসল উদ্দেশ্য হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালিকে ধ্বংস করা। অতএব, বিক্ষোভ দেখাতে হবেই, কিন্তু সংযতভাবে।’

উল্লেখ্য, আগামী ১৮ ডিসেম্বর শহর কলকাতায় NRC ও CAB-এর বিরোধিতায় একটা জনসমাবেশেরও ডাক দেন ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা। ভিডিও বার্তায় ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, ‘১৮ ডিসেম্বর সকলে আসুন। হিন্দুভাই, মুসলমানভাই সকলে। আসুন শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করি আমরা। কিন্তু কারো প্ররোচনায় পা দেবেন না।’

Spread the love

Check Also

অতিমারি ও লকডাউনে কেমন ভূমিকা পালন করল সঙ্ঘ? জানুন ক্লিক করে

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, বেঙ্গালুরু, গুয়াহাটি এবং সুরাতে প্লাজমা দান করছেন, বিহারে ফিরে আসা …

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোদী, যোগীকে আমন্ত্রণ করতে চায় ওয়াকফ বোর্ডও

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো: তথাকথিত বাবরি মসজিদের পরিবর্তে অযোধ্যার অন্যত্র যে ৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে, …

নিম্নচাপ সরছে, বৃষ্টি কমার কথা জানাল আবহাওয়া দফতর

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো : বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ছত্তিশগড়ের উপর দিয়ে মধ্যপ্রদেশের দিকে অবস্থান করছে। তাই নিম্নচাপ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!