চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
শতবর্ষে প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানালেন আরও এক প্রাক্তনী। মঙ্গলবার ছিল মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের শতবর্ষের অনুষ্ঠান। সেখানেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে (Buddhadeb Bhattcharya)। রায় পরিবারের পক্ষ থেকে বুদ্ধদেব বাবুর কাছে এই আমন্ত্রণ পত্রটি নিয়ে গিয়েছিলেন সুব্রত (শংকর) ঘোষ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এদিন সেখানে উপস্থিত না থাকতে পারলেও, সোমবার রাতে পত্রবাহক সুব্রত ঘোষকে ফোন করেন বুদ্ধদেব জায়া মীরা ভট্টাচার্য (Mira Bhattcharya)। সেখানেই মীরা দেবী জানান, বুদ্ধদেববাবু অসুস্থ থাকার কারণে তারা শতবর্ষে সিদ্ধান্ত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না। কিন্তু রায় পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ভাবে তাদের আমন্ত্রণ জানানোয় তারা কৃতজ্ঞ। এবং প্রয়াত তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আত্মার প্রতি তারা উভয়েই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।

সূত্রের খবর, পাল্টা সৌজন্য জন্য দেখিয়ে সুব্রত ঘোষ বলেন, “বুদ্ধদেববাবু অসুস্থ হলেও, আপনি যদি কিছুক্ষণের জন্য এই অনুষ্ঠানে আসেন, তাহলে রায় পরিবারের ভালো লাগবে।” জবাবে মীরা দেবী বলেন, “বুদ্ধদেববাবু এতটাই অসুস্থ যে ওকে ছেড়ে একা যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই অনুষ্ঠানের না যেতে পারলেও আমাদের শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও শ্রদ্ধা সবকিছুই আপনাদের সঙ্গে রয়েছে।” এদিনের অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে যখন দমদমের সাংসদ সৌগত রায় সিদ্ধার্থবাবুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে মাইক্রোফোন সুব্রত ঘোষের হাতে তুলে দেন, তখনই প্রকাশ্যে একথা জানিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ঘটনাচক্রে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও (Mamata Banerjee) এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, তিনি আসেননি বা কোনও বার্তা পাঠাননি।

এদিন দক্ষিণ কলকাতার বেলতলা সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের বাসভবনে আয়োজিত হয়েছিল ‘শতবর্ষে সিদ্ধার্থ’ অনুষ্ঠান। সেখানেই ব্যারিস্টার রাজনীতিকে শ্রদ্ধা জানাতে একে একে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রত বক্সী এবং প্রদীপ ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, কংগ্রেস নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবাশীষ কুমার, দমদমের সাংসদ সৌগত রায়, পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও স্থানীয় কাউন্সিলর সন্দীপ বক্সী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর স্মৃতিচারণা করে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান (Abdul Mannan) বলেন, “একসঙ্গে রাজনীতি করলেও আমরা ছিলাম মানুদার থেকে অনেক ছোট। দলে পরস্পর বিরোধী রাজনীতিও করেছি আমরা। কিন্তু কখনোই আমাদেরকে ছোট চোখে দেখেননি। বরাবর তার উদার মানসিকতায় সব কিছুকে সহজভাবে গ্রহণ করতেন।” অন্যদিকে বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “তিনিই একমাত্র রাজনীতি যিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, আমেরিকায় দেশের রাষ্ট্রদূত হয়েছেন। আবার পাঞ্জাবের রাজ্যপাল হয়েছিলেন। এমন বর্ণময় রাজনীতিক ভারতে আগে কখনও আসেনি। আসবেও না। সবচেয়ে বড় কথা মানুষের সমর্থন না থাকলে আমার বিধায়ক হওয়া হতো না।”
পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের (Subrata Mukherjee) কথায়, এখন আর সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের মতো রাজনৈতিক দেখা যায় না। একদিকে তিনি যেমন ছিলেন দক্ষ রাজনৈতিক, তেমনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ। তার মতো মানুষ বাংলার কেন ভারতের রাজনীতিতে বিরল।” সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “আমার সঙ্গে মানুদার আলাপ ১৯৬৭ সাল থেকে। তিনি ছিলেন ‘লার্জার দেন লাইফ’।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news