চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চিন সংঘর্ষের পরে বিএসএনএল-কে (BSNL) ৪জি পরিষেবা উন্নত করার জন্য চিনের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে নিষেধ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “ভারত শান্তি চায়। কিন্তু প্ররোচিত করা হলে উপযুক্ত জবাব দিতেও আমরা তৈরি।” রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আপাতত ভারতের চীনা পণ্য বয়কট কিংবা চীনের বিনিয়োগ রাস্তার মধ্যে এটাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রথম পদক্ষেপ। প্রসঙ্গত, সীমান্ত সমস্যা শুরু হওয়ার সময়ই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিরূপ মন্তব্য করেছিল চিন। স্থল সীমানা লাগোয়া কোনও দেশ ভারতে বিনিয়োগে আগ্রহী হলে ভারত সরকারের থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। এই সিদ্ধান্তের পর এই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল শিং জিনপিংয়ের সরকার। কিন্তু লাদাখে সেনা সংঘর্ষে ভারতীয় জওয়ানদের মৃত্যুর পর কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এখনও মুখ খোলেনি বেজিং।
দিল্লির একটি সূত্র জানাচ্ছে, টেলিকম মন্ত্রালয়ের (Telecom Ministry) তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বিএসএনএল-এর পরিষেবার উন্নতিতে আর কোনও চিনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে না। এক্ষেত্রে যুক্তি দেখানো হয়েছে, চিনা প্রযুক্তি ব্যবহার করলে গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সুরক্ষার খাতিরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টেলিকম মন্ত্রকের তরফে আরও বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত যে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল তা পুনরায় বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ টেলিকম ক্ষেত্রে কোনো চিনা বিনিয়োগ এলে তা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করবে সরকার।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বলেছেন, ‘‘ভারত বরাবর প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। লক্ষ্য থাকে, মতভেদ যাতে মতান্তরে, মতপার্থক্য যাতে বিবাদে পরিণত না-হয়। দেশের জন্য গর্বের কথা হল, আমাদের সেনারা মারতে মারতে মৃত্যুবরণ করেছেন।’’ তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে আপাতত চিনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ জারি রাখবে দিল্লি। সেক্ষেত্রে টেলিকমের মতো আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে চিনা বিনিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news