সূর্য সরকার
লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই ইভিএমের বদলে ব্যালট ফেরানোর দাবি তুলেছে তৃণমূল। দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠক হোক বা ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ব্যালট চাই’ সওয়াল করেছেন। কিন্তু এটুকুই। এরপর যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তৃণমূলের তরফে তার কোনও উদ্যোগ নেই। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, রাজ্যের শাসক দলের তরফে এরকম দাবি জানিয়ে কোনও চিঠি এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে , সেটা নিয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি, আগামী বছর রাজ্যের যে ১১০,টি পুরসভার নির্বাচন (১৭টি পুরসভায় মেয়াদ শেষ এবং আগামী বছরের প্রথম দিকেই আরও অনেক পুরসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে) হবে, তা কবে হবে তা নিয়ে নিজেরাই যথেষ্ট ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা।
নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, “পুরভোট ব্যালট নাকি ইভিএম কিসে হবে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত অবশ্যই কমিশন নেবে। কিন্তু কমিশন স্ব:প্রণোদিতভাবে কোনওদিন সরকারের কাছে এই বিষয়ে কিছু জানতে পারে না স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে আবার সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে কনিশনকে এই ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করার অধিকার নেই। একমাত্র যখন কোনও রাজনৈতিক দল এ ব্যাপারে চিঠি দেবে তখনই ব্যালটের ব্যাপারে আমরা আলোচনা করতে পারি বা সবদিক খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তবে, তৃণমূল বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের থেকে কমিশন এখনও এরম কোনও চিঠি পায়নি।”
তাহলে কি শুধুই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকেই তৃণমূলের ‘ব্যালট ফেরাও’ স্লোগান ? প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার মন্তব্য, “ভোট এখনও অনেক দেরি। সামনের বছর ভোট অবশই হবে কিন্তু কবে তার কোনও ঠিক নেই। তাই এখনো কমিশনকে চিঠি দেওয়ার সময় আসেনি। ৩-৪ মাস আগেও চিঠি দেওয়া যায়।” সঙ্গে সেই নেতার আরও দাবি, এখন পুজোর মরসুম। এসব নিয়ে ভাবনাচিন্তা পুজোর পরে হবে।
কমিশনের একটা সূত্র বলছে , পুরভোট ব্যালটে হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। ১১০টি পুরসভায় ইভিএমে ভোট করাতে গেলে যে পরিমান মেশিন প্রয়োজন কমিশনের হাতে তা নেই, নতুন ইভিএম কিনতে হবে। এমনকি যে ১২,০০০ মেশিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে তার মধ্যে মাত্র ৩০০০-৩৫০০ মেশিন কর্মক্ষম অবস্থায় রয়েছে। ফলে, সেই অঙ্কে রাজ্য নির্বাচন কমিশন শাসক দল তথা সরকার পক্ষের দাবি মেনে ব্যালটে ভোট করানোর পথে হাটতেই পারে। কিন্তু, পুর-নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়েও নিশ্চুপ রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কারণ ইতিমধ্যেই যে ১৭টি পুরসভার মেয়াদ শেষ, সেখানে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রশাসকের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বাকি আরও ৯৩ পুরবোর্ডের মেয়াদ কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হবে। ফলে, আগামী বছরের প্রথম দিকেই ভোট করতে হবে। কিন্তু এখনও রাজ্য প্রশাসনের তরফে এবিষয়ে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেই বলেই কমিশন সূত্রের খবর। খোদ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ট মহলে ফেব্রুয়ারি মাসে ভোট করানোর কথা বলেছিলেন। সরকারের অন্য একটি সূত্র বলছে, এপ্রিলে হতে পারে পুর-নির্বাচন। অর্থাৎ যাই হোক না কেন এখনই ভোট করানো নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই সরকারি মহলে। কমিশনের সেই আধিকারিকের কথায়, “আমাদের সঙ্গে সরকারিভাবে পুরভোটের ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনা এখনও হয়নি। যদি ফেব্রুয়ারিতে ভোট করতে হয়, তাহলেও পুজোর পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেই হবে।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news