চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্নেহের কাননকে ফিরে পেতে বলি দিতে চাইছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়কে (Ratna Chatterjee)। অথচ তাঁর এমন সিদ্ধান্তের চাপা বিরোধিতা করে মুখ খুলেছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ (Atin Ghosh)। সোমবার দুপুরে তৃণমূলের একটি সূত্র থেকে জানানো হয়, দলের সব রকম দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে। দলের এক শীর্ষ নেতা মারফত সংবাদমাধ্যমে এই খবরটি দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, যে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে এত কান্ড, তাঁকেই দলের পক্ষ থেকে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি! অগত্যা ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডে যেভাবে দল তথা প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রত্না, সেভাবেই সক্রিয় রয়েছেন তিনি। একনিষ্ঠ কর্মী রত্নাকে ছেঁটে ফেলে শোভন-বৈশাখী কে দলে ফেরানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি তৃণমূলের শোভন বিরোধী গোষ্ঠী। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ঘটেছে সেই অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ। অন্তত এই রকমই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বর্তমান প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) জানিয়ে দেন, “কাউকেই কোনও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। যিনি যেখানে আছেন, তিনি সেখানেই থাকবেন।” একই সুরে অতীন ঘোষ বলেন, রত্না চট্টোপাধ্যায় দলের কোনও সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিল বলে আমার জানা নেই। আমরা পুরসভার কাজে যখন ওখানে যেতাম, তখন ওখানকার বহু মানুষ এগিয়ে আসত। এলাকার সমস্যা তুলে ধরতে যেসব মানুষ আসত তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল রত্না চট্টোপাধ্যায়।” এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র আরও বলেছেন, “রত্না চট্টোপাধ্যায় দলের কোনও দায়িত্বে আছে এমন নির্দেশ কখনও আমাদের কাছে আসেনি। ওখানে দলের কোনও সাংগঠনিক দায়িত্বে আছেন বা প্রশাসনিকভাবে কোনও দায়িত্ব পেয়েছেন, এমন কিছু আমাদের জানা নেই।” তিনি আরও বলেন, “যখন তিনি কোনও দায়িত্বেই ছিলেন না, তখন তাঁকে কোনও পদ থেকে সরানোর কথা আসতেই পারে না। দায়িত্বে থাকলেই তবে তাঁকে সরানো যায়।”
প্রসঙ্গত, এবার শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভন-বৈশাখী (Shovan Chatterjee & Baishakhi Banerjee) শিবিরের অন্যতম শর্ত ছিল, তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করতে হবে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে। সূত্রের খবর, তাদের এই শর্তে রাজি হয়েছিলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো। কিন্তু, বর্তমানে দলীয় সমীকরণের রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে পারেননি তিনি। শোনা যায়, সেই কারনে দলেরই এক শীর্ষ নেতাকে দিয়ে কৌশলে খবরটি সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন খোদ মমতাই। কিন্তু, নেত্রীর এই সিদ্ধান্তে সায় নেই দলেরই একাংশের। তাই প্রকাশ্যেই ফিরহাদ হাকিম ও অতীন ঘোষ রত্নার পক্ষেই মুখ খুলেছেন। এমন মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পরিপন্থী হলেও বিদ্রোহী মেজাজ দেখাতে কার্পণ্য করেননি তাঁরা। তৃণমূলের অাভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফিরহাদ-অতীন উভয়ই শোভন বিরোধী বলে পরিচিত। স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁরা যে শোভনের প্রত্যাবর্তনে খুশি হবেন না সে কথাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news